বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা, আমদানি-রফতানিতে গতি ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম বন্দর

বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা, আমদানি-রফতানিতে গতি ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম বন্দর

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৩:৫৭

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠলেও এখনও আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের গতি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের ৯ মাসে ৩ হাজারের বেশি জাহাজে আসা ২৬ লাখ কন্টেইনারের পাশাপাশি ১০ কোটি মেট্রিক টন কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এই সময়ে এককভাবে ৫৮ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ।

পুরো মার্চ জুড়েই মধ্যপ্রাচ্যে চলছে ইরানের সঙ্গে মার্কিন আমেরিকা এবং ইসরাইলের ভয়ংকর প্রাণঘাতী যুদ্ধ। এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌ রুট হরমুজ প্রণালীসহ আশপাশের অঞ্চল দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল। পণ্য এবং জ্বালানিবাহী কয়েক হাজার জাহাজ আটকা পড়ায় এ মুহূর্তে বিশ্ব অর্থনীতি অনেকটা উত্তাল।

তবে বৈশ্বিক এই সংকটের মাঝেও ১০ কোটি ৪২ লাখ মেট্রিক টন কার্গো পণ্য হ্যান্ডলিং করে ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ২৫ লাখ ৭৪ হাজার কন্টেইনারে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং ৩ হাজার ২৩০টি জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের মাধ্যমে ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ভ্যাসেল টার্ন এরাউন্ড কমানো গেছে। এ মুহূর্তে চট্টগ্রাম বন্দরে জিরো ওয়েটিং টাইম মেনটেইন করছি। আমরা অনেক ক্ষেত্রেই অটোমেশনের সহযোগিতা নিয়েছি। ফলে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি সূচকে পড়তি চোখে পড়েনি।’

যুদ্ধের কারণে মার্চ মাসে আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও উচ্চ শুল্কহারের জ্বালানি তেল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ এবং খাদ্য পণ্য আমদানি থেকে রাজস্ব আয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। মার্চ মাসেই এখানে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। যা আগের অর্থ বছরের তুলনায় আড়াইশ কোটি টাকা বেশি। আর গত নয় মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও ৫৮ হাজার ৪৩২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ‘বৈশ্বিক সংকট থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক সংকটে আমদানি কিছুটা কমেছে। তবে আশাকরি বছরের বাকি সময়ে বিশেষ করে জুন মাসে আমাদের রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বাড়বে। এবং আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবো।’

এদিকে ২১টি বেসরকারি অফডকে সার্বিকভাবে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের নয় মাসে রফতানিতে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং আমদানিতে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করছে বিকডা। তবে যুদ্ধ আক্রান্ত এই মাসে আমদানি কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ বাড়লেও কমেছে রফতানি কন্টেইনার উঠা-নামা।

বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বিপ্লব বলেন, ‘অফডকগুলোতে আমদানি পণ্যের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আগে যেখানে ৩৭টি ছিল সেখানে আমরা এখন ৬৭টি আইটেম হ্যান্ডলিং করি।’

তবে, যুদ্ধ ঝুঁকি বিবেচনায় জাহাজের পাশাপাশি কন্টেইনার পরিবহন ভাড়া দিয়েছে বিদেশি মেইন লাইন শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলো। এক্ষেত্রে চলতি এপ্রিল মাসে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading