পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা সরকারের, আসছে নতুন ৩ আইন: অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা সরকারের, আসছে নতুন ৩ আইন: অর্থমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৬ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৭:০৬

দেশের শেয়ারবাজারকে গতিশীল ও প্রাণবন্ত করতে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মূল উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আইনি সংস্কার, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর অংশ হিসেবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মধ্যে তিনটি নতুন আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের (নোয়াখালী-৫) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। সরকারের এই পরিকল্পনায় বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে মৌলভিত্তিসম্পন্ন বেসরকারি কোম্পানির পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আর্কষণ করতে বাজারে নতুন নতুন পণ্য আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন। এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড, সুকুক (ইসলামিক বন্ড) এবং গ্রিন বন্ড। কমোডিটি ডেরিভেটিভ ও ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভ। মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সুশাসন নিশ্চিত করে সাধারণ বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ।

মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে সরকার বড় ধরনের আইনি সংস্কারের হাত দিয়েছে। বিএসইসি আইন ২০২৫ : ১৯৬৯ সালের অর্ডিন্যান্স এবং ১৯৯৩ সালের আইনের সংমিশ্রণে সম্পূর্ণ নতুন একটি আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন ২০২৬: দাবিবিহীন ডিভিডেন্ড ও শেয়ারের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য এই আইনটি করা হচ্ছে। হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা বিধিমালা ২০২৬: পুঁজিবাজারের অনিয়ম প্রকাশকারীদের সুরক্ষা দিতে নতুন বিধিমালা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, কর্পোরেট গভর্নেন্স কোড সংশোধন করে ‘কর্পোরেট গভর্নেন্স রুলস ২০২৬’ প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তদন্ত ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কারসাজি ও অনিয়ম বন্ধে বাজারের আধুনিকায়ন ও সম্পূর্ণ ডিজিটাইজেশনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাজারে প্রবেশাধিকার সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের সচেতন করতে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যান মধ্যে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে বিনিয়োগ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিটিভিতে ‘পুঁজিবাজারের জানা-অজানা’ নামে পাক্ষিক অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কন্টেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরবে এবং এটি দেশের অর্থনীতির একটি টেকসই স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading