বাড়ল চালের দাম

বাড়ল চালের দাম

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬, আপডেট ১২:৫০

রাজধানীর বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চালের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট, নাজিরশাইলসহ প্রায় সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তার দামই বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।

শুক্রবার (৫ জুন) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশেপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

দেশে যখন তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ছে; তখন চালের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। প্রতিকেজি আটাশ চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়, আগে ছিল ৬৬ থেকে ৬৭ টাকা। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮০ টাকায়, আগে ছিল ৬৫ থেকে ৭৮ টাকা।

মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তায়ও ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, এলসি বন্ধ থাকায় ভারতীয় চালের আমদানি কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে।

চাল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ভারতীয় চাল আসা কমে গেছে, এলসিও বন্ধের মতো পরিস্থিতি আছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। সেই কারণেই দাম একটু বাড়ছে।

ক্রেতা শারমিন আক্তার বলেন, এক মাস আগে যে চাল কিনেছি, এখন একই চালের জন্য বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। আমাদের আয় তো বাড়েনি। বাজারে কোনো জিনিসের দাম কমলেই মনে হয় একটু স্বস্তি পাব, কিন্তু চালের দাম বাড়লে সব হিসাব আবার এলোমেলো হয়ে যায়।

চালের বাজারে এমন অস্থিরতার মধ্যেই কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে মুরগি ও ডিমের বাজারে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে এখন ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দামও ৬০ থেকে ৮০ টাকা কমে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় নেমে এসেছে।

মুরগি বিক্রেতা রাশেদুল ইসলাম বলেন, খামার থেকে সরবরাহ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় পণ্য বেশি আসায় দাম কমেছে। আমরা এখন আগের তুলনায় কম দামে বিক্রি করছি।

ডিমের বাজারেও দেখা দিয়েছে কিছুটা স্বস্তি। বর্তমানে প্রতি ডজন লাল ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা কম। ডিম বিক্রেতা সোলায়মান বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। তাই দাম কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজারেও এখন তেমন চাপ নেই।

অন্যদিকে সবজির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বেশিরভাগ সবজি এখন ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কাঁকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা আবদুল হালিম বলেন, সবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে, ডিম-মুরগির দামও কমেছে। কিন্তু চালের দাম বেড়ে সেই স্বস্তি নষ্ট করে দিয়েছে। কারণ চাল তো প্রতিদিনই ব্যবহার হয়। কয়েক টাকা করে বাড়লেও মাস শেষে খরচ অনেক বেড়ে যায়।

আরেক ক্রেতা মো. রুবেল বলেন, চাল এমন একটা পণ্য, যেটা ছাড়া কোনো পরিবার চলতে পারে না। ডিম-মুরগির দাম কমেছে, সেটা ভালো খবর। কিন্তু চালের দাম বাড়ায় সেই সুবিধাটা আমরা পাচ্ছি না। সরকারের উচিত চালের বাজারের দিকে এখনই নজর দেয়া।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading