বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে: প্রধানমন্ত্রী

বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে: প্রধানমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১২:৫৮

বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বুধবারের প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে জাতির শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে এবং একটি গুণগত, জীবনমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছে। সে আলোকে শিক্ষা খাতে ৪৩টি ক্ষেত্র চিহ্নিত করে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইশতেহারে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ করা হবে। সকল উপজেলায় পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলায় স্কুল ফিডিং/মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নতুন প্রজন্মকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সমমানের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হবে। ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে দেড় হাজার প্রতিষ্ঠানে (মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) ফ্রি ওয়াই-ফাই সংযোগ এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের জন্য অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা ‘এডু-আইডি’ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ এবং সব জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আধুনিকায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে দেশের ২ হাজার ৩৩৬টি কারিগরি ও ৮ হাজার ২৩২টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করা হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ প্রদান এবং কারিগরি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া আইসিটি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক আগামী ছয় মাসের মধ্যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সাইবার সিকিউরিটি, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন (ফ্লাটার), পাইথন প্রোগ্রিং এবং এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading