ফুয়েল পাসেও কমছে না অপেক্ষার ভোগান্তি, তবে তেল মিলছে ‘কিছুটা’ বেশি

ফুয়েল পাসেও কমছে না অপেক্ষার ভোগান্তি, তবে তেল মিলছে ‘কিছুটা’ বেশি

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) ২০২৬, আপডেট ১৬:০৬

পেশায় পাঠাও চালক মাহমুদ হোসেন সকাল ৮টা থেকে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন আসাদগেটের সোনার বাংলা ফুয়েল স্টেশনে। দুপুর ১টার পর তিনি নজেলের কাছাকাছি এসে পৌঁঁছান। ফুয়েল পাস থাকা সত্ত্বেও টানা ৫ ঘণ্টার অপেক্ষা শেষে বাইকে তেল নিতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, এখানে দুইটা লাইন। একটা ফুয়েল পাসের, আরেকটা ফুয়েল পাস ছাড়া। কিন্তু দুইটা লাইনই বিশাল। যাদের পাস আছে, তারা তেল কিছুটা বেশি পাচ্ছে, কিন্তু ভোগান্তিটা কমলো না।

কড়া রোদে অপেক্ষা করছিলেন আরেক ফুয়েলপাসধারী বাইকার নাজমুল। তিনি বলেন, ৩ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়ানো। কখন নজেলের কাছাকাছি যেতে পারবো, নিশ্চিত না। ফুয়েল পাস চালু করেও তো লাইন কমলো না।

সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন জানাচ্ছে, ফুয়েল পাস যাদের রয়েছে, তাদের ১ হাজার ও যাদের নেই তাদের ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।

তবে ফুয়েল পাসের চাইতে পাসহীন বাইকারদের লাইন অনেকটাই লম্বা। তাদের কাউকে কাউকে ৬-৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল নিতে হচ্ছে।

বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষারত বাইকারদের লাইনও অনেকদূর ছাড়িয়ে গেছে। তবে এখানে পাসধারী ও পাসহীন বাইকাররা একই লাইনে অপেক্ষা করছেন, ভিন্ন লাইন নেই।

ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ফুয়েল পাস যাদের রয়েছে, তাদের ১২০০ টাকার ও যাদের নেই তাদের ১ হাজার টাকার তেল দিচ্ছে। পাস চালু করার আগ পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনটি প্রত্যেকটি বাইকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকার তেল দিতো।

ট্রাস্টে সকাল ৭টা থেকে অপেক্ষা করে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ তেল নিতে পেরেছেন কাউছার আহমেদ। তিনি বলেন, এই ভোগান্তির শেষ হবে কবে? দিনের অর্ধেক সময় চলে যায় তেল নিতে নিতে।

ফুয়েল পাস থাকা সত্ত্বেও ৪ ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেছেন মো. ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, পাসের জন্য ট্যাংকি ফুল করে নিতে পারলাম, এটাই শান্তি।

এদিকে কারিগরি উন্নয়নের কাজে গত শনিবার থেকে বন্ধ ছিল ফুয়েল পাসের সাইট। ফলে গ্রাহকরা কোনো রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি। তবে কারিগরি কাজ শেষে রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত থেকেই চালু হয়েছে সাইট।

এ বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের আইসিটি শাখার সহকারী রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলী মো. রাজিবুল হক রাজিব ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফুয়েল পাসের সাইটটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আছে। ফলে বিভিন্ন ধরনের কাজ সেখানে করা হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে বিআরটিএ কাজ করছে, তাদের ভেরিফিকেশন প্রসেসটা স্লো। সাইট খোলার পর থেকে প্রচুর হিট পড়েছে। এছাড়া সিকিউরিটি কনসার্নের বিষয়টিও উঠে এসেছে। আশা করছি দ্রুতই সাইটের যাবতীয় সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading