যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি হবে কি না তা ঠিক করবে ইরান: জেডি ভ্যান্স

যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি হবে কি না তা ঠিক করবে ইরান: জেডি ভ্যান্স

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১০:০৫

পারমাণবিক ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে ভবিষ্যৎ কোনো সমঝোতা হবে কি না—সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ইরানের ওপরই নির্ভর করছে বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। আলোচনার অগ্রগতি, পরবর্তী পদক্ষেপ কিংবা চূড়ান্ত সমঝোতা—সব ক্ষেত্রেই তেহরানের অবস্থানই নির্ধারক ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি হবে কি না, সেটি ইরানই ঠিক করবে। তার ভাষায়, সরাসরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে কি না এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—এই সিদ্ধান্ত এখন পুরোপুরি তেহরানের হাতে।

জেডি ভ্যান্স জানান, আমেরিকার অবস্থান স্পষ্ট। ওয়াশিংটন চায়, ইরান চূড়ান্তভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করুক। ইরান যদি এ বিষয়ে সম্মত হয়, তাহলে এমন একটি চুক্তি সম্ভব যা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে ইরান যদি এতে রাজি না হয়, সেটিও তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত—এ বিষয়টি মেনে নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আরও জানান, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও তা চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছানোর মতো ছিল না। তার দাবি অনুযায়ী, ওই সময় আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের প্রতিনিধিরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবস্থানে ছিলেন না। এজন্য তাদের তেহরানে ফিরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পর আমেরিকার প্রতিনিধিদল বুঝতে পেরেছে, ইরান কীভাবে আলোচনার প্রক্রিয়া চালায়। কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সেগুলো চূড়ান্ত চুক্তির জন্য যথেষ্ট ছিল না বলে মন্তব্য করেন ভ্যান্স।

বিশেষ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরানো এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় মাত্রায় অগ্রগতি হয়নি বলে তার অভিযোগ। ভ্যান্সের ভাষায়, ইরান কিছুটা পথ এগিয়েছে, তবে আমেরিকার প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়।

তবে এত কিছুর পরও একটি বড় চুক্তির সুযোগ এখনো রয়ে গেছে বলে মনে করেন আমেরিকার এই শীর্ষ কর্মকর্তা। তার মতে, সেই সুযোগ বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী ও চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে ইরানকেই।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আমেরিকার নৌ অবরোধকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading