বোমার আঘাতে শুধু মানুষ নয়, ক্ষতবিক্ষত ইরানের ইতিহাসও

বোমার আঘাতে শুধু মানুষ নয়, ক্ষতবিক্ষত ইরানের ইতিহাসও

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১২:৫৭

বোমার আঘাতে শুধু মানুষ নয়, ক্ষতবিক্ষত হয়েছে ইতিহাসও। ইরানের শত শত বছরের পুরনো প্রাসাদ, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নিদর্শনে এখন ধ্বংসের চিহ্ন। ভাঙা কাচ, ধুলোমাখা সিংহাসনসহ সবকিছুই যেন অতীতের এক নিঃশব্দ আর্তনাদ বয়ে বেড়াচ্ছে। এই ক্ষতি শুধু একটি দেশের নয়, পুরো বিশ্বের ইতিহাসের ক্ষত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ইরানের রাজধানী তেহরানের গোলেস্তান প্রাসাদ ও সাদা’বাদ কমপ্লেক্সে যুদ্ধের ছাপ এখন স্পষ্ট। শত শত বছরের ইতিহাস বহন করা দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। জানালার কাচ ভেঙে পড়ে আছে মেঝেতে। প্লাস্টিক দিয়ে ঢেকে রাখা জানালা আর সতর্কবার্তার সাইনবোর্ড যেন চেষ্টা করছে ইতিহাসকে আরেকটু সময় বাঁচিয়ে রাখতে।

গোলেস্তান প্রাসাদের ভেতরে সাড়ে ৩শ’ বছরের পুরনো মার্বেল সিংহাসন ‘তাখত-এ মারমার’ও ইসরাইলের আগ্রাসন থেকে রক্ষা পায়নি।

প্রাসাদের কর্মীরা জানান, এই স্থাপনাটি ফতেহ আলি শাহের আমলের এবং এটি প্রাসাদের অন্যতম প্রাচীন অংশ। একইসঙ্গে দেড়শ’ বছরের বেশি পুরনো হল অব মিররস এর ছাদ ও কাচ ভেঙে পড়েছে, যা ঐতিহ্যগত কারুকার্যের বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসফাহান শহরেও একই দৃশ্য। ঐতিহাসিক নিদর্শনের অন্যতম স্থান গভর্নরের কার্যালয়ও এ হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি।

স্থানীয়রা দাবি করেন, ইসফাহান শুধুমাত্র একটি শহর নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের সম্পদ। এই ঐতিহ্যের প্রতি আঘাত মানে গোটা বিশ্বের ইতিহাসের ওপর আঘাত।

তারা বলেন, ‘ইসফাহান শহর কেবল ইসফাহান প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়, কিংবা ইসফাহানের মানুষের একারও নয়। এই শহর কেবল ইরানের মানুষের সম্পত্তি নয়। এই শহর বিশ্বের উত্তরাধিকার। এই ঐতিহ্যকে সম্মান জানানো উচিত, এবং এর প্রতি সম্মান কখনোই লঙ্ঘন করা উচিত নয়।’

নাক্স এ জাহান-এর মতো স্থাপনাগুলোর আশপাশে হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইসফাহানে রয়েছে ২২ হাজারের বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন। আর এসব ঐতিহ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে এরমধ্যেই উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading