বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭৭ হাজার ৭৯৯ শূন্যপদ, পরীক্ষায় হবে নিয়োগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭৭ হাজার ৭৯৯ শূন্যপদ, পরীক্ষায় হবে নিয়োগ

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৭:১৫

দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য শিক্ষক পদের তথ্য পেয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এসব শূন্যপদে এবার আর আগের মতো শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে নয়, সরাসরি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হবে। খুব দ্রুতই এ সংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদের চাহিদা পেয়েছে এনটিআরসিএ। এসব পদ যাচাই-বাছাই শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এটি ‘নবম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ নামে প্রকাশিত হতে পারে।

এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারই প্রথম সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে এবং যাচাই শেষে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, নতুন পদ্ধতিতে প্রার্থীদের প্রথমে ২০০ নম্বরের এমসিকিউ ভিত্তিক লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবেন। উভয় পরীক্ষায় পাস করতে হলে প্রার্থীকে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদেরই কেবল শিক্ষক নিয়োগের সনদ দেওয়া হবে।

মূলত, বর্তমানে দেশে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হতে হলে প্রার্থীদের প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিবন্ধন সনদ অর্জন করতে হয়। পরে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন নিয়ে শূন্য পদের বিপরীতে এনটিআরসিএ প্রার্থীদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে থাকে। নতুন পদ্ধতিতে এই প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে শিক্ষকদের শূন্য পদের চাহিদা আহ্বান করা হয়, যা ‘ই-রিকুইজিশন’ নামে পরিচিত। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর গত ১৫ মার্চ এই কার্যক্রম শেষ হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ (ই-রেজিস্ট্রেশন) কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪ হাজার ১২৯টি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

এর আগে সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ৬৭ হাজার ৮৭টি। পরবর্তীতে ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য অষ্টম বিজ্ঞপ্তিতে ১২ হাজার ৯৫১টি পদে নিয়োগ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ প্রদান করে আসছে। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে সংস্থাটিকে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়। এরপর সাতটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading