বাজেট বাস্তবায়নে দরকার দূরদর্শিতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা: এফবিসিসিআই

বাজেট বাস্তবায়নে দরকার দূরদর্শিতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা: এফবিসিসিআই

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৫:৪০

বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়, দূরদর্শিতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলে মনে করে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

শনিবার (১৩ জুন) ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের ওপর গণমাধ্যমে পাঠানো এক পর্যবেক্ষণ এ কথা জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

পর্যবেক্ষণে এফবিসিসিআই বলেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার ৯ লক্ষ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে যা বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১ লক্ষ ৪৮ হাজার কোটি টাকা (১৮.৭%) বেশী। বর্তমান ভূ- রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসৃজন সৃষ্টি, বিভিন্ন স্তরের জনসাধারণ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের সুবিধা বঞ্চিত জনগণকে সুবিধা প্রদান এবং সর্বোপরি এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে যেতে এ বাজেটের আকার অবাস্তব নয়। তবে দেশের ইতিহাসের এই সর্বোচ্চ বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। বাজেটে জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনসাধারণের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।

এতে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লক্ষ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১০.২%। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্য ৬ লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতের লক্ষ্যমাত্রা ৯১ হাজার কোটি টাকা। এ বিশাল রাজস্ব আদায় সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এমনিতেই বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকসহ রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী বিরাজমান কঠিন পরিস্থিতির কারণে ভীষণ চাপের মুখে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, প্রবৃদ্ধি-ব্যবসা-বিনিয়োগবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার জরুরি বলে আমরা মনে করি।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ২ লক্ষ ৪৩ হাজার কোটি টাকা যা জিডিপি’র ৩.৬ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লক্ষ ২৭ হাজার কোটি টাকা নিতে হবে এবং বৈদেশিক উৎস হতে নিতে হবে ১ লক্ষ ১৬ হাজার কোটি টাকা। যদিও ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছর থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে তবুও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কেননা, ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের ঋণ বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে স্থানীয় ব্যাংক ব্যবস্থার পরিবর্তে যথাসম্ভব সুলভ সুদে ও সতর্কতার সাথে বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়নের জন্য নজর দেওয়া যেতে পারে।

বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং তদারকির মান ক্রমাগতভাবে উন্নয়নের জন্য সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা ও পরিকল্পনা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মনে করে এফবিসিসিআই।

এতে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ সুদ পরিশোধ বাবদ ১ লক্ষ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সুদ পরিশোধ বাবদ ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সহ সরকারকে মোট ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করতে হবে। এই সুদের অর্থ পরিশোধের জন্য অর্থ সংস্থান সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার জন্য এফবিসিসিআই আহ্বান জানিয়েছে।

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাজেট বাস্তবায়নে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কম কর-জিডিপি অনুপাত, খেলাপি ঋণের উচ্চহার, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়নে বাজেটের সাফল্য নির্ধারণ করবে।

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বহুমুখী চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে যথাযথভাবে বাজেট বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তিকে শক্ত কাঠামোর উপর দার করাতে বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এফবিসিসিআই।

সেগুলো হলো- বিনিয়োগ-বান্ধব অর্থনৈতিক জোনগুলো কার্যকর করা; রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার অনুসন্ধান; আইটি ও ইলেকট্রনিক্স খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন; প্রশাসনিক জটিলতা ও ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস’ হ্রাস করা; ক্যাপিটাল মার্কেট শক্তিশালী ও বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ; এডিপি বাস্তবায়নে গুণগতমান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা; সুদের হার হ্রাস, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ; অপ্রয়োজনীয় ও অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ; লজিস্টিক ও সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করা; মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সংক্রান্ত আইনি কাঠামো গঠন; সুনীল অর্থনীতির (ব্লু ইকনোমি) সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপান্তর করা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading