পঞ্চগড় সীমান্তে অচলাবস্থা: ২৮ ঘণ্টা ধরে ১০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা

পঞ্চগড় সীমান্তে অচলাবস্থা: ২৮ ঘণ্টা ধরে ১০ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬, আপডেট ১১:১০

পঞ্চগড় সদরের হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে নারী-শিশুসহ ১০ জন ব্যক্তি ২৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখার ওপারে ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে সৃষ্ট এ পরিস্থিতির এখনো কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ওই ১০ জনের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। তারা সীমান্ত-সংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন। জমিটিতে পানি জমে রয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) ভোর থেকে সেখানে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে তারা খোলা আকাশের নিচেই রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার রাতে এলাকায় মুশলধারে বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির সময়ও নারী-শিশুসহ ওই ব্যক্তিরা একই স্থানে অবস্থান করেছেন। তাদের জন্য কোনো ধরনের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা মাঠে অবস্থান করায় শিশুদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় তারা।

এর আগে, ইন্ডিয়ান সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করলে বিজিবি তা প্রতিহত করে। বিজিবির অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি এবং বর্তমানে শূন্যরেখার ওপারে ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরেই অবস্থান করছে।

ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে কোম্পানি পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

৫৬ বিজিবির নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে ইন্ডিয়ান সীমান্ত এলাকায় ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করা হয়েছে। বিজিবির তৎপরতায় তাদের এখনো শূন্য রেখার ওপাশে, ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরে আটকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বিষয়টির সমাধানে আজ ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে আরও একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading