সরকারি অর্থায়নে চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১ হাজার ৩৬ ফ্ল্যাট

সরকারি অর্থায়নে চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১ হাজার ৩৬ ফ্ল্যাট

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ০৮:০০

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ম সভায় এ সিদ্ধান্ত দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মানবিক বিবেচনায় প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় আলোচ্যসূচির ১৩ নম্বরে ছিল স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন চসিক কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবিত প্রকল্প। এতে প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণ এবং অর্থায়ন কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সভায় জানান, প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৩১ দশমিক ৪২৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছিল ১৮৫ দশমিক ১৪১৪ কোটি টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ছিল ৪৬ দশমিক ২৮৫৪ কোটি টাকা। পরবর্তীতে ব্যয় বেড়ে ৩০৯ দশমিক ৩৫২০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। নতুন প্রস্তাবে ৬১ দশমিক ৮৭০৪ কোটি টাকা নিজস্ব অর্থায়নের কথা থাকলেও তা বহন করা চসিকের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ইউটিলিটি ব্যয় ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায়ই অধিকাংশ অর্থ ব্যয় হয়। এ বাস্তবতায় প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন চাওয়া হয়। তিনি বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেন।

প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে জানানো হয়, প্রাথমিক প্রাক্কলন গণপূর্ত বিভাগের ২০১৮ সালের রেট শিডিউল অনুযায়ী করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ২০২৩ সালের হালনাগাদ রেট শিডিউল এবং নতুন ডিজাইন অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করায় প্রায় ৭৭ দশমিক ৯২৫২ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

এদিকে, সিটি কর্পোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বান্ডেল কলোনিতে জায়গা সংকটের কারণে নির্ধারিত দুইটি ভবনের মধ্যে একটি নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে ভবনটি ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে চসিকের নিজস্ব জমিতে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের ড্রয়িং, ডিজাইন ও তদারকির জন্য ২০২০ সালে পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ খাতে ৪ দশমিক ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ায় অতিরিক্ত দুই কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত সেবকদের পুনর্বাসনে সময় লাগায় কাজ শুরুতে দেরি হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর ৬ মাস বাড়িয়ে ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রকল্পের আওতায় মোট সাতটি ভবন নির্মাণ করা হবে, যেখানে ১ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৬০০ বর্গফুট নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading