ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ায় ফিফার সমালোচনা, পদক বাতিলের দাবি

ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ায় ফিফার সমালোচনা, পদক বাতিলের দাবি

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, আপডেট ১৫:৩৪

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আমেরিকার ওয়াশিংটনে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যেখানে প্রস্তুত হয়েছে পুরো টুর্নামেন্টটির রূপরেখা। ওই অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার ‘পিস প্রাইজ’ বা শান্তি পুরস্কার বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। বিদ্রুপের শিকার হন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেই পুরস্কার বাতিলের দাবি তুলেছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)।

ফিফা সভাপতির সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণেই ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয় বলেও কথিত রয়েছে। এর কিছুদিন আগে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার লক্ষ্যে মরিয়া ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান। যদিও তাকে শেষমেষ হতাশই হতে হয়েছে। তাই ফিফা প্রদত্ত শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের জন্য ‘সান্ত্বনা’ কি না ওঠে সেই প্রশ্নও। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মিডফিল্ডার জ্যাকসন আরভিন ট্রাম্পের শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তি ফিফার মানবাধিকার সনদের সঙ্গে উপহাস বলে মন্তব্য করেছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ফিফার ওই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। আরভিন বলেন, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্ত ফিফার মানবাধিকার সনদের প্রচেষ্টাকে উপহাসে পরিণত করে। তারা ফুটবলকে বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চায়, কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্যকে পেছনে ঠেলে দেয়। এতে ফুটবলের বর্তমান ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বিশেষ করে খেলাটির অভিভাবক সংস্থা সমাজ এবং তৃণমূল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।’

এদিকে, নরওয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্কহীন এমন পুরস্কার দেওয়া বন্ধ করতে তারা চিঠি লিখবেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই এই পুরস্কার বাতিল করা হোক। এমন কোন পুরস্কার দেওয়া ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আমরা মনে করি না। এ কাজের জন্য স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছে নোবেল ইনস্টিটিউট। ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যে শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, তা ফিফার নিজস্ব রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। এ ছাড়া ফিফার ভেতরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।’

অন্যদিকে, বিশ্বকাপের সময় আমেরিকার অভিবাসন সংস্থা আইসিই (আইসিই)-এর কর্মকর্তারা যেন ম্যাচগুলোকে লক্ষ্যবস্তু না বানান, এ বিষয়েও আমেরিকা সরকারের কাছ থেকে নিশ্চয়তা আদায়ে ফিফাকে চাপ দেবে এনএফএফ। ক্লাভেনেসের দাবি– ‘আমরা ফিফা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। তারা কীভাবে বিভিন্ন স্টেডিয়ামে আইসিইর কার্যক্রম বা পদক্ষেপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, সেটি জানতে চাইব। আমাদের লক্ষ্য হলো, সবাই যেন নিরাপদে বিশ্বকাপে যেতে পারে এবং স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারে। আমরা ফিফা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে এই বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব। বিশ্বকাপ হওয়া উচিত সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ।’

এ ছাড়া ‘ফেয়ারস্কয়ার’ নামে একটি প্রচারগোষ্ঠী শান্তি পুরস্কার নিয়ে যে অভিযোগ করেছে ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে, সেটিকেও সমর্থন দেবে এনএফএফ। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো এই পুরস্কার তুলে দেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে। ধারণা করা হচ্ছে, ৩০ এপ্রিল ভ্যাঙ্কুভারে শুরু হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেসে বিষয়টি নিয়ে নিজেদের অভিমত তুলে ধরবেন ক্লাভেনেস।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading