কৃষকের মর্যাদা বাড়লেই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ : কৃষিমন্ত্রী

কৃষকের মর্যাদা বাড়লেই শক্তিশালী হবে বাংলাদেশ : কৃষিমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০২ মে, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৮

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, দেশের কৃষকরাই বাংলাদেশের মূল শক্তি। কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের মর্যাদা বৃদ্ধির মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বনির্ভর ও শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

শনিবার দুপুরে (২ মে) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমি শুধু কৃষকের সন্তানই নই, নিজেও একজন কৃষক। একসময় কিছু মানুষ নিজেদের কৃষকের পরিচয় দিতে সংকোচ বোধ করতেন, কিন্তু এখন সেই ধারা বদলে গেছে। আজ মানুষ গর্বের সঙ্গে নিজেকে কৃষকের সন্তান হিসেবে পরিচয় দেয়। এই পরিবর্তনই প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং একসময় অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বিশ্ব মানচিত্রে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, যে যুক্তি দিয়ে কথা বলতে পারে, সেই প্রকৃত অর্থে বিতর্ক করতে পারে। বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে যুক্তি ও বুদ্ধির মাধ্যমেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাই সুস্থ বিতর্কের চর্চা অত্যন্ত জরুরি।

মন্ত্রী অতীতের শাসনব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বলেন, এক সময় পৃথিবীতে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল। তখন প্রজারা জানত, রাজা কী চায়—তা সে খাজনা হোক, ফসল হোক বা কখনো অন্যায় দাবি। তখন সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ করার সুযোগ ছিল না। আজও বিশ্বের কিছু দেশে বিভিন্ন শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও তাদের প্রভাব কমে এসেছে। তবে বর্তমান বিশ্বের ক্ষমতাধর শক্তিগুলোর উদ্দেশ্য সব সময় স্পষ্ট নয়। তারা কখনও সম্পদ, কখনও প্রভাব, এমনকি একটি দেশের সার্বভৌমত্বও চ্যালেঞ্জ করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, এই বাস্তবতায় আমাদের অস্ত্র হতে হবে যুক্তি, প্রজ্ঞা ও কৌশল। শক্তির লড়াইয়ে নয়, বরং জ্ঞান ও যুক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে। পূর্বসূরিরা আমাদের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে গেছেন। এখন আমাদের দায়িত্ব আগামী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত করা।

কৃষকদের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কৃষকরা অনেক সময় তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান না। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কোন পণ্যের চাহিদা কত—তা সহজেই জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে। ফলে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি হবে এবং কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়বেন না।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পিত কৃষি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ একদিন খাদ্য নিরাপত্তায় আরও শক্ত অবস্থান অর্জন করবে।

ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাশার ভূঁঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক, কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল মজিদ, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক গাজী মুহাম্মদ গোলাম সোহরাব হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ূম, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, কুমিল্লার কাগজ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়সহ অন্যান্যরা।

‘সত্যকে চিনে নাও যুক্তির নিরিখে’ প্রতিপাদ্যে কলেজ বিতর্ক পরিষদ (ভিসিডিএস) এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading