সীমান্ত হত্যা না কমলে লংমার্চ করা হবে: পাটোয়ারী
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, আপডেট ১৮:১০
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লাল চুড়ি পরিয়ে রাখা দরকার।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এনসিপির নেতারা। এ সময় নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কোন বক্তব্য-বিবৃতি নেই। সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে। সরকার যেমন ঢাকায় ব্যর্থ হচ্ছে, তেমনি দেশের প্রতিটি সীমান্তে নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ হচ্ছে। আমি সরকারকে বলব, আপনারা যদি সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী হন, তবে সীমান্ত রক্ষা আপনাদের কর্তব্য। না হলে আপনারা ভুয়া জাতীয়তাবাদী, আর ভুয়া জাতীয়তাবাদীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়।’
বিজিবির পক্ষ থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সমালোচনা করে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশি মানুষকে মাদক চোরাকারবারি বলা হয়েছে, এটি ইন্ডিয়ান বয়ান। আমরা বিজিবিকে ইন্ডিয়ান বয়ান থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের আগে বিএসএফ মারা যেত। কিন্তু ওই ঘটনার পর বিজিবির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করব, এই বাহিনীকে নতুন করে পুনর্গঠন করা হবে।’
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, ‘মাদক চোরাকারবারের সঙ্গে অনেক সংসদ সদস্য জড়িত। পার্লামেন্টে ঢোকার আগে তাদের ডোপ টেস্ট করা জরুরি। সরকারের যারা এমপি আছেন, তারা মাদক ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তা না হলে ঢাকায় এত ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল আসে কোথা থেকে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনকে এর জবাবদিহি করতে হবে।’
এনসিপির এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা যদি আরও বাড়ে এবং সরকার কোন কার্যকর উদ্যোগ নিতে না পারে, তবে আমরা পুরো বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তের দিকে লংমার্চ করব। দেখব আমাদের কে ঠেকায়।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে সীমান্তে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। ‘আজকে আমাকে তিন জায়গায় বাধা দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে চারজনের বেশি যেতে পারব না। আমি তো বাংলাদেশের মাটিতেই আছি। যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাব। কাল রাত থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাকে বিরক্ত করছে।’
এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদি, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, মোস্তাক আহমেদ শিশির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে কসবা উপজেলার ধ্বজনগর-পাথরিয়াদ্বার সীমান্তে বিএসএফের ছররা গুলিতে দুজন নিহত হন। তারা হলেন ধ্বজনগর গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে কলেজ ছাত্র মো. মুরসালিন (২২) এবং মধুপুর গ্রামের মকরম আলীর ছেলে নবীর হোসেন (৪২)। এ ঘটনায় আরও অন্তত চারজন আহত হন। ঘটনার ১৮ ঘণ্টা পর বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করে।
নিহত মুরসালিনের বাবা হেবজু মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত। তাকে প্রলোভন দেখিয়ে চোরাকারবারিরা রাতে ডেকে নিয়ে যায়। পরের দিন খবর পাই বিএসএফের গুলিতে সে মারা গেছে। যারা আমার ছেলেকে নিয়ে গেছে এবং সীমান্তে যারা তাকে হত্যা করেছে, আমি সবার বিচার চাই।’
অপর নিহত নবীর হোসেনের মা জাহেরা খাতুনও ছেলেকে হত্যার বিচার দাবি করেন এবং যারা তাকে সীমান্তে যেতে সহায়তা করেছিল তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ইউডি/রেজা

