বাড়ি ফিরছে মানুষ: সড়কপথে ভোগান্তি ও বাড়তি ভাড়ার নৈরাজ্য
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, আপডেট ১৪:৪৫
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ছিল যাত্রীদের ভিড়। বিশেষ করে মহাখালী বাস টার্মিনালে অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। একের পর এক আন্তঃজেলা বাস যাত্রী নিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে।
সকাল থেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গ্রামের পথে রওনা হতে দেখা যায় অনেককে। কেউ যাচ্ছেন বগুড়া, কেউ ময়মনসিংহ, সিরাজগঞ্জ কিংবা জামালপুরে। তবে ঈদযাত্রার শুরুতেই বিভিন্ন রুটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে নন-ব্র্যান্ড ও লোকাল পরিবহনগুলোতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) একটি ভিজিল্যান্স টিমও টার্মিনালে দায়িত্ব পালন করছে। বিভিন্ন কাউন্টারে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি এবং ওয়েটিং জোনে বাসের অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে অনেককে।
বগুড়াগামী যাত্রী সোহান বলেন, একতা বাসে আমি এর আগেও অনেকবার যাতায়াত করেছি। সাধারণ সময়ে ৫৫০ টাকায় টিকিট পেয়েছি। কিন্তু আজ একই বাসে ৫৮০ টাকা নেওয়া হয়েছে। কাউন্টারে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, এটা নাকি বিআরটিএ নির্ধারিত নতুন ভাড়া।
ময়মনসিংহগামী মাসুদ হাসান বলেন, ইউনাইটেড বাসে এখনও নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে, এটা ভালো দিক। তবে যাত্রী অনেক বেশি হওয়ায় বাস পেতে দেরি হচ্ছে। তারপরও মানুষ বাড়ি ফিরতে চায় বলেই এত ভিড়ের মধ্যেও সবাই ধৈর্য ধরে আছে।
সরিষাবাড়িগামী যাত্রী সুমন তালুকদার বলেন, সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ৩৫০ টাকা, এখন সেটাই ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঈদ এলেই কিছু পরিবহন সুযোগ নেয়। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কিছু করারও থাকে না। পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরতেই হবে, তাই বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিয়ে টিকিট কাটতে হচ্ছে।
পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন আরিফুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের ট্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ট্রেন মিস করার কারণে শেষ মুহূর্তে বাসে আসতে হয়েছে। এখানে এসে দেখি টিকিট ৫২০ টাকা করে। পরিবারের পাঁচজনের জন্য অনেক টাকা গুনতে হচ্ছে। ঈদের সময় যাতায়াতে খরচ এমনিতেই বেড়ে যায়, তার ওপর বাড়তি ভাড়া সাধারণ মানুষের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।
এদিকে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে যাত্রীচাপ বেড়ে যাওয়ায় টার্মিনালগুলোতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
ইউডি/রেজা

