ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা

ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৭

ইরানে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা।

যুদ্ধ পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিবিএস নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যদিও শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি শনিবার তার ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এর বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। এছাড়াও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো তার নিউ জার্সিতে অবস্থিত নিজের গলফ রিসোর্টে কাটানোর কথা ছিল, কিন্তু এখন তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে যাচ্ছেন।

আরও কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকার সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নতুন হামলার সম্ভাবনার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রগুলোর মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিদেশে অবস্থিত ঘাঁটিগুলোতে প্রস্তুত অবস্থায় থাকা সেনাদের তালিকা হালনাগাদ করছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত কিছু সেনা প্রত্যাহারও করা হচ্ছে, যাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো যায় এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করা যায়।

এপ্রিলের শুরুতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইরান ও আমেরিকা সরাসরি একে অপরের ওপর আক্রমণ থেকে অনেকটাই বিরত রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে পরোক্ষ আলোচনার জন্য সময় তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস নিউজকে বলেন, ‘ট্রাম্প তার সীমারেখা খুব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না এবং তারা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও রাখতে পারবে না ‘

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলে ধরে ইরান নতুন একটি মানচিত্র প্রকাশ করার পর পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা ২০ হাজারের বেশি নাবিকের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। ইতোমধ্যেই এসব নাবিকরা খাদ্য ও পানির সংকটে ভুগছেন।

রয়টার্সের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস ধরে এসব নাবিক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। তারা ছোট ছোট কক্ষ, যৌথ খাবারঘর এবং প্রখর রোদে উত্তপ্ত জাহাজের ডেকে অল্প কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে সময় পার করছেন।

তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও কাতারি প্রতিনিধি দল

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদল শুক্রবার সন্ধ্যায় ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানান ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দর মোমেনি।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি বুধবার থেকেই তেহরানে অবস্থান করছেন। তিনিও অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে পাকিস্তান আইএসপিআর জানায়, আসিম মুনিরের এই সফরের উদ্দেশ্য হলো ‘ইরান ও আমেরিকার মধ্যে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে’ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, কাতারের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার তেহরানে অবস্থান করেছিল এবং তারা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছে।

টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, ‘এই সময়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক- উভয় পর্যায়ের অনেক দেশ যুদ্ধ বন্ধ করতে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকাতে সহায়তার চেষ্টা করছে।’ তবে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

তিনি আরও জানিয়েছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান ও কাতার।

প্রসঙ্গত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব- এই তিন দেশের অনুরোধে ইরানের ওপর হামলা আপাতত স্থগিত করেছিলেন বলে সোমবার মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প।

সূত্র: বিবিসি

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading