ভেনেজুয়েলার তেল থেকে ইরান যুদ্ধের খরচের ২৫ গুণ উঠে এসেছে: ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার তেল থেকে ইরান যুদ্ধের খরচের ২৫ গুণ উঠে এসেছে: ট্রাম্প

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, আপডেট ১৬:৫

ভেনেজুয়েলা থেকে লুট করা তেলের বিক্রির আয় থেকে ইরানের যুদ্ধের পুরো খরচের ২৫ গুন বেশি উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাফর্নে রকল্যান্ড কমিউনিটি কলেজে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক ললারের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে সমর্থকদের সামনে তিনি এই দাবি করেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমরা কেমন করেছি? খুব একটা খারাপ না। আমরা সেখান থেকে এত বেশি পরিমাণ তেল সংগ্রহ করেছি যে, তা দিয়ে ইরান যুদ্ধের পুরো খরচের অন্তত ২৫ গুন উঠে এসেছে।’

প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ দেশ। আমেরিকার জ্বালানি তথ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ সংস্থা ইউএস অ্যানার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)-এর তথ্য অনুসারে, ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে মজুত আছে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। বিশ্বের খনিগুলোতে মোট যত তেল মজুত আছে, তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলায়।

গত ৩ জানুয়ারি সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে আমেরিকায় নিয়ে আসার পর দেশটির তেল সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তেল বিক্রি করেছে আমেরিকা।

এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয়ের সঠিক পরিসংখ্যান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি আমেরিকা। তবে ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানের ব্যয় নিয়ে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেই সমালোচনারই জবাব দিলেন ট্রাম্প।

এরআগে গত ১২ মে আমেরিকার কংগ্রেসকে দেওয়া মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর- পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত আমেরিকার ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে, যা গত মাসের শেষের দিকে দেওয়া হিসাবের তুলনায় ৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও যুদ্ধের এই খরচ মূলত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে সীমিত, এর মধ্যে সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষতির হিসাব অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়াও হামলার আগে সামরিক প্রস্তুতির খরচও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অন্যদিকে, অর্থনীতিবিদ এবং প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনসহ মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৬৩০ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জানায়, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার শত শত কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রের ভান্ডারের একটি বড় অংশ নিঃশেষ করে ফেলেছে। এরমধ্যে ১,২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছিল—যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লক্ষ ডলারেরও বেশি। এছাড়াও আমেরিকা চীনের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য নির্মিত প্রায় ১,১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে, যা তাদের মজুদে থাকা মোট সংখ্যার কাছাকাছি।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও কর্মকর্তাদের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান যুদ্ধ ১ হাজারেরও বেশি প্রিসিশন স্ট্রাইক ও এটিএসিএমএস স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। ফলে এসব অস্ত্রের মজুতও উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হলেও এই সংখ্যা আসল চিত্র তুলে ধরছে না। কারণ বড় লক্ষ্যবস্তুতে সাধারণত একাধিকবার আঘাত করা হয়।

দুটি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, ৪০ দিনের এই যুদ্ধে আমেরিকার ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে, অর্থাৎ দিনে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্রের মজুত পূরণের ফলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারেও পৌঁছাতে পারে।

সূত্র: মিডল ইষ্ট আই

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading