ঈদে সঙ্গী হবে ভ্যাপসা গরম ও ভারী বৃষ্টি

ঈদে সঙ্গী হবে ভ্যাপসা গরম ও ভারী বৃষ্টি

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, আপডেট ১৮:৩৬

এবারের ঈদুল আজহায় সারাদেশেই ভ্যাপসা গরমের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের পূর্বাংশের জেলাগুলোতে ঈদের দিন বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা বেশি। এসব অঞ্চলে ঈদের আগে, পরে এবং ঈদের দিন মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো এবং হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ এ. কে. এম. নাজমুল হক শনিবার (২৩ মে) সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, দেশে মোট আটটি বিভাগ থাকলেও এই ছোট্ট দেশের ভেতরেই আবহাওয়ার ধরনে লক্ষণীয় পার্থক্য দেখা যায়। বর্তমানে মূল ফোকাস করা হচ্ছে রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, সিলেট বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের পূর্বাংশ-নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ-এই অঞ্চলগুলোতে ঈদের সময়টায় বৃষ্টির সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

একই সময়ে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এবং ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা বিভাগের কেন্দ্রীয় অংশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও তা তুলনামূলকভাবে কম-এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, এপ্রিল-মে মাসে প্রায়ই লোকালাইজড ক্লাউড সেল তৈরি হয়। এর ফলে হঠাৎ করে ৮-১০ মিনিটের এক পশলা বৃষ্টি হয়ে যায়। এই পরিবর্তনশীলতার কারণে শতভাগ নিখুঁত পূর্বাভাস দেওয়া এখনো সম্ভব নয়। অনেক সময় পূর্বাভাসে যে সময় বলা হয়, তার তিন ঘণ্টা আগেই বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে দেখা যায়। টাইম-স্পেসিফিক বা পিন-পয়েন্ট পূর্বাভাস দেওয়া এখনো বেশ কঠিন।

তিনি আরও জানান, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেটের পাশাপাশি উত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল-কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনীসহ বেশ কয়েকটি জেলাতেও ঈদের সময় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে বৃষ্টি হচ্ছে, তা মূলত ঝড়ো হাওয়া, দমকা বাতাস ও বজ্রপাতসহ হচ্ছে-উল্লেখ করে তিনি বাসসকে বলেন, এই সময়কার বৃষ্টি সাধারণত বজ্রপাত ও হালকা দমকা হাওয়ার সঙ্গে হয়ে থাকে এবং পরিস্থিতি এখনো একইভাবে চলছে।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে খুলনা বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে নাজমুল হক বলেন, খুলনার বাইরে হলে তাপপ্রবাহ রাজশাহী বিভাগের কিছু অঞ্চলে-বিশেষ করে রাজশাহী, পাবনা ও ঈশ্বরদী এলাকায় প্রবাহিত হতে পারে। তবে তাপপ্রবাহ না থাকলেও সারা দেশেই ভ্যাপসা গরম অনুভূত হবে এবং বর্ষা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই অবস্থা থাকতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, মৌসুমি বায়ুর অবস্থান এখন বেশ অনুকূল। আজ ২৩ তারিখ, আর ২৯ তারিখই হলো বাংলাদেশের স্বাভাবিক মৌসুমে প্রবেশের সময়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম হয়ে দেশে প্রবেশ করতে পারে। বর্ষা আসার আগ পর্যন্ত গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়াই থাকবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading