ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখো মানুষ, রাস্তাঘাট ফাঁকা
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, আপডেট ১৮:৪০
ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন শুক্রবারও রাজধানীর রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বেশিরভাগ নগরবাসী আগেই ঢাকা ছেড়েছেন। এ কারণে রাস্তায় মানুষজনের ভিড় কম।
শহরের সড়কে নেই চিরচেনা যানজট বা গাড়ির হর্নের শব্দ। ফলে স্বস্তিতে রাস্তায় চলাফেরা করতে পারছেন নগরবাসী।তবে এদিনও কিছু মানুষ ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পথে ছুটেছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে নগর ছেড়েছেন হাজারো মানুষ।
ঘরমুখী এসব মানুষের ভিড়ে সকালের দিকে নগরীর বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কিছুটা ভিড় দেখা যায়। ঘরমুখী মানুষের চাপ ছিল কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও। দুপুরের পর এসব জায়গায়ও নীরবতা নেমে আসে।
শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, পল্টন, গুলিস্তান, মতিঝিল, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডি, রামপুরা ও মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
ঈদের দিনের মতো এদিনও সড়কে যান চলাচল তুলনামূলকভাবে কম ছিল। বাস, সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাও ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম।
অন্যদিকে ফাঁকা সড়কে স্বস্তিতে চলাচল করছেন রাজধানীতে অবস্থান করা মানুষ। কোথাও কোথাও শিশু-কিশোরদের রাস্তায় খেলাধুলা করতেও দেখা গেছে।
ঈদের ছুটির পুরো সময়জুড়ে রাজধানী এমন শান্ত ও ফাঁকা পরিবেশ থাকবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার ঘোষিত সাত দিনের ছুটি শেষে আগামী সোমবার থেকে ঢাকা মহানগর আবারও কর্মব্যস্ত ও জমজমাট হয়ে উঠবে বলেও মনে করছেন তাঁরা।
এদিকে, ঈদের দিন বন্ধ রাখার পর শুক্রবার দুপুরের পর মেট্রোরেলের চলাচল শুরু হয়। কিছু মানুষ এই গণপরিবহনেও যাতায়াত করেছেন এদিন। তবে মেট্রোরেলেও মানুষের ভিড় ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে স্বস্তি ও নির্ঝঞ্ঝাট যাত্রা উপভোগ করছেন যাত্রীরা।
শেওড়াপাড়ায় বিহঙ্গ পরিবহনের চালক মো. ইসমাইল বলেন, ঈদের দিন সকাল থেকে রাত অবধি তাদের পরিবহনের বাসগুলো অনেকটাই ফাঁকা চলাচল করেছে। শুক্রবার অনেকে ঈদ করতে গ্রামে যাওয়ার কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত যাত্রীর ভিড় কিছুটা ছিল। বিকেলের পর আবারও প্রায় ফাঁকা বাস নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়েছে।
সিএনজিচালক আবদুর রহমান জানান, ঈদের পরদিন বাড়তি আয়ের আশায় রাস্তায় নেমেছেন তিনি। সকাল থেকে অনেক যাত্রীকে বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে আনা-নেওয়া করেছেন। সব মিলিয়ে রোজগার ভালোই হয়েছে। এদিনও রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কম থাকলেও সেখানে বাড়তি ভাড়া আদায়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি দেখা গেছে।
ঈদ বকশিশের কথা বলে এই বাড়তি ভাড়া নিয়েছে পরিবহনগুলো। সিএনজি ও অটোরিকশাও এর ব্যতিক্রম ছিল না। বাড়তি ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের বাকবিতণ্ডাও দেখা গেছে। ফার্মগেট এলাকায় কথা হয় শিকড় পরিবহনের যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী আবদুল মোতালেবের সঙ্গে।
তিনি জানান, স্বাভাবিক দিনে মিরপুর-১০ থেকে পল্টন পর্যন্ত ভাড়া ২৫ টাকা নেওয়া হলেও আজ ঈদের কথা বলে ৩৫-৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এরপরও কারও কারও কাছ থেকে বকশিশ দাবি করা হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া না দেওয়া হলে রীতিমতো দুর্ব্যবহারও করছেন বাসের স্টাফরা।
এমন অভিযোগ অস্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই পরিবহনের হেলপার জানান, সারা বছর যাত্রীদের আনা-নেওয়ায় কঠোর পরিশ্রম করেন তাঁরা। এর ওপর অনেক গরিব যাত্রীকে কম ভাড়া, ক্ষেত্রবিশেষে মানবিক কারণে বিনা ভাড়ায়ও গন্তব্যে পৌঁছে দেন তাঁরা।
এখন উৎসবের দিন হওয়ায় তাঁরা বকশিশ দাবি করতেই পারেন। সেটাও আবার যারা স্বেচ্ছায় দেন, তাদের কাছ থেকেই নেওয়া হচ্ছে। কাউকে জোর করা হচ্ছে না।
ইউডি/এআর

