বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফেরাতে ১০ দফা সুপারিশ সিপিজের

বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফেরাতে ১০ দফা সুপারিশ সিপিজের

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০২ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৯:০৮

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর দলীয় নিপীড়নের চক্র ভেঙে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। মঙ্গলবার (২ জুন) সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই আহ্বান জানিয়ে দশ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

সিপিজে এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের সমন্বয়কারী কুনাল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে প্রায়শই প্রতিটি নতুন সরকারের জন্য পূর্ববর্তী প্রশাসনের অনুসারী হিসেবে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনকে ব্যবহার করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ভিন্ন হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু ১০০ দিন পরও অর্থপূর্ণ অগ্রগতি সীমিত।

তিনি আরও বলেন, ‘কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের মাধ্যমে সরকার কাজ শুরু করতে পারে। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করা, সাংবাদিকদের মব ভায়োলেন্স থেকে রক্ষা করা, কুৎসা রটানো বন্ধ করা এবং যে আইনগুলোর কারণে এসব সম্ভব হচ্ছে তা সংশোধন করা প্রয়োজন।’

সিপিজে বলেছে, প্রত্যেকবার ক্ষমতার পরিবর্তনের সময় সাংবাদিকদের আটক, বিচার, নজরদারি, আক্রমণ এবং হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে, যার বড় কারণ ছিল সদ্য পতন হওয়া সরকারের প্রতি তাদের কথিত আনুগত্য। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সিপিজে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে ১০টি প্রধান পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে- সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার ব্যবহার বন্ধ করা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ব্যবহার বন্ধ করা, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, মব ভায়োলেন্স থেকে সাংবাদিক ও নিউজরুম রক্ষা করা, সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাইবার ক্রাইম মামলা খারিজ করা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ সংস্কার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এর ব্যবহার বন্ধ করা, খসড়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ প্রত্যাহার এবং মিডিয়া সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের নীরব করতে ব্যবহৃত পুরোনো আইন এবং নজরদারি কাঠামো বাতিল বা সংশোধন, অ্যাক্রিডিটেশন ব্যবস্থার সংস্কার এবং হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এবং হেয়প্রতিপন্ন করা বন্ধ করা।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading