মোদি সরকারের পতনের শঙ্কা জাগাচ্ছে ভাইরাল ‘ককরোচ পার্টি’!
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার (০৭ জুন) ২০২৬, আপডেট ২৩:৫৫
গত মাসে ইন্ডিয়ার একজন শীর্ষ বিচারক দেশের বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি এর ফল কী হতে পারে।
বিচারকের ওই তুলনা ইন্ডিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মধ্যে এক বিশাল ক্ষোভ–বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে অনলাইনে এটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিবাদের ঘটনা।
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি অনলাইনে রীতিমতো ঝড় তুলেছে। তবে তারা এই আন্দোলনকে বাস্তব দুনিয়ায় রূপ দিতে পারবে কি না, তার প্রথম পরীক্ষা হবে এই সপ্তাহান্তে। প্রথমবারের মতো রাজপথের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিতে আমেরিকা থেকে গত শনিবার নয়াদিল্লিতে এসেছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে।
দ্য টেলিগ্রাফকে দীপকে বলেন, ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার কাছে আমরা শুধুই ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ। আমরা তুচ্ছ, সহজেই অবহেলাযোগ্য ও পুরোপুরি আবর্জনার মতো। কিন্তু তেলাপোকা সব পরিবেশেই টিকে থাকে। আপনারা আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারেন, কিন্তু একেবারে মুছে ফেলতে পারবেন না।’
ইন্ডিয়ার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের মন্তব্য পড়ার পর তিনি এ ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল গঠন করেন। নরেন্দ্র মোদির দল ইন্ডিয়ান জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের সঙ্গে মিলিয়ে তিনি এর নাম দিয়েছেন সিজেপি।
এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, ‘কিছু তরুণ তেলাপোকার মতো, যারা কোনো চাকরি পান না কিংবা পেশাগতভাবে কোথাও দাঁড়াতে পারেন না। তাদের কেউ কেউ গণমাধ্যমকর্মী বনে যান, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী হন, আবার কেউ তথ্য অধিকারকর্মী বা অন্য কোনো ধরনের অ্যাকটিভিস্ট হয়ে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করেন।’
বিশ্বজুড়েই দেখা যায়, কৌতুক, মিম ও অনলাইন তৎপরতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনগুলো অনেক সময় প্রথাগত বিরোধী দলের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়। এরা খুব সহজে স্বৈরতান্ত্রিক সরকারগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, তেলাপোকা পার্টি এর একটি আদর্শ উদাহরণ।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
ইউডি/এবি

