মমতার কংগ্রেসে যাওয়ার গুঞ্জন: প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে রাহুলকে মানার শর্ত
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫৯
তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন করে জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে। দিল্লিতে দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ধারাবাহিক বৈঠকের পর সম্ভাব্য একীভূতকরণ বা রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা সামনে আসছে। তবে এই সম্ভাবনা ঘিরে কংগ্রেসের ভেতরেই স্পষ্ট মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) একক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়ান সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন।
রাজনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে তৃণমূলের শীর্ষ মহলের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে কথা হয়েছে। যদিও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
দিল্লির ১০ জনপথে মঙ্গলবার কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরদিন একই স্থানে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই ধারাবাহিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে যে, ভবিষ্যতে দুই দলের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়তে পারে, এমনকি সীমিত পর্যায়ে একীভূতকরণের আলোচনাও হতে পারে।
তবে এই সম্ভাবনার বিরোধিতা করছে কংগ্রেসের একাংশ। পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর চৌধুরী ও আবদুল মান্নানসহ একাধিক নেতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তৃণমূলের সঙ্গে কোনো জোট বা একীভূতকরণের পক্ষে তাঁরা নন। তাঁদের মতে, অতীতে তৃণমূলের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক এবং রাজ্যের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই ধরনের সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলবে।
অন্যদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তুলনামূলক নরম অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দলে যোগ দিতে হলে রাহুল গান্ধীকেই নেতৃত্ব হিসেবে মানতে হবে এবং তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ চাপ ও ভাঙনের ইঙ্গিতের মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এই সমীকরণ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
কংগ্রেসের প্রদেশ নেতৃত্বের একাংশ আবার স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, দুর্নীতি বা অতীত রাজনৈতিক সংঘাতকে উপেক্ষা করে কোনো বড় সমঝোতা হলে তা দলীয় ভিত্তিতেই বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে তৃণমূল–কংগ্রেস সম্পর্ক ঘিরে জোট, সমঝোতা বা একীভূতকরণের জল্পনা আপাতত রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত।
ইউডি/রেজা

