১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, আপডেট ০৮:২০

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় উৎস থেকে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য ব্যয় হবে ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। রাজশাহীর নাবিল নবা ফুডস লিমিটেড প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে এ ডাল সরবরাহ করবে।

বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৭২ টন ডাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ সারাদেশে টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির জন্য নতুন করে ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টিসিবির মাসিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ২০ হাজার টন মসুর ডাল প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুসারে উন্মুক্ত জাতীয় দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। দরপত্র মূল্যায়ন শেষে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নাবিল নবা ফুডস লিমিটেডকে নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, মসুর ডালের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৭ টাকা ৩৭ পয়সা। সেখানে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দর প্রস্তাব করেছে, যা প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় ৪ টাকা ৮৩ পয়সা কম।

এছাড়া টিসিবির বাজার তথ্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মে স্থানীয় বাজারে সমজাতীয় মসুর ডালের গড় পাইকারি মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৪ টাকা। সে হিসাবে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দর বাজারদরের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১ টাকা ৪৬ পয়সা কম।

টিসিবির তথ্য বলছে, সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল প্রতি কেজি ৮৩ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ১৬ এপ্রিল ৮৪ টাকা ৭৭ পয়সা দরে মসুর ডাল কেনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারও তুলনামূলক কম দরে ডাল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণেও স্থানীয় উৎস থেকে ক্রয়কে লাভজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া উৎসের মসুর ডাল আমদানি করে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা খরচ পড়বে।

অন্যদিকে ভারতীয় উৎসের মসুর ডালের ক্ষেত্রে এ ব্যয় দাঁড়াবে ১২৪ টাকা ২৪ পয়সা। ফলে স্থানীয় বাজার থেকে ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে ডাল সংগ্রহকে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে টিসিবির গুদামে ১৪ হাজার ৪৮৪ টন মসুর ডাল মজুত রয়েছে। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ ও পাইপলাইনে রয়েছে আরও ৩৬ হাজার ৬০৫ টন। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চালাতে প্রায় ৫৫ হাজার ৯৭৪ টন মসুর ডালের প্রয়োজন হবে। এ কারণে নতুন করে ১০ হাজার টন ডাল কেনাকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে সংস্থাটি।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading