এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা

এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, আপডেট ০৯:০০

বিশ্বজুড়ে ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির (এল নিনো) ব্যাপক প্রভাব দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নোয়া) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে এখন এল নিনোর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভিন্ন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ‘সুপার এল নিনোতে’ রূপান্তরিত হতে পারে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর একটি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যেই পৃথিবী উষ্ণ হয়ে উঠেছে। তার ওপর এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হলে ২০২৭ সালে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়তে পারে। একই সঙ্গে আবহাওয়া, খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। ২০২৭ সালজুড়েই এ প্রভাব দেখা দিতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, নোয়ার এ ঘোষণা অপ্রত্যাশিত নয়। কারণ আবহাওয়াবিদরা আগেই বলেছেন, এল নিনোর শীতল ‘সহোদর’ প্রক্রিয়া লা নিনা গত বছরের শেষে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর উষ্ণ পর্যায় শুরু হবে।

নোয়া জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্য ও উষ্ণমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছে। এটি এল নিনোর ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় সীমা।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গত এক মাসে এল নিনোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেননা মধ্য ও পূর্ব নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে স্বাভাবিকের তুলনায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়েছে।

সংস্থাটি বলছে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরের বায়ুপ্রবাহেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ফলে কেবল সমুদ্রই উষ্ণ হচ্ছে না, বায়ুমণ্ডলও সেই উষ্ণতার প্রতিক্রিয়া দৃশ্যমান হচ্ছে।

বিবিসি বলছে, প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ের চেয়ে কতটা বেশি বেড়েছে তার ওপর নির্ভর করে এল নিনোর প্রভাব নির্ধারণ করা হয়।

গত জুন মানে নোয়া জানিয়েছে, নভেম্বর থেকে জানুয়ারি সময়কালে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো ঘটনার ৬৩ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বড় এল নিনোগুলোর মধ্যে স্থান পেতে পারে।

যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের মাসিক ও দশকভিত্তিক পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কেইফ বলেন, আমাদের এল নিনোর প্রভাব নিয়ে অবশ্যই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। বর্তমান এল নিনো এমন এক পরিস্থিতিতে ঘটছে, যেখানে ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য মাত্রার বৈশ্বিক উষ্ণায়ন চলছে।

তিনি বলেন, যেসব অঞ্চলে এল নিনোর প্রভাব পড়বে সেখানে তাপমাত্রা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। কারণ এল নিনোর উষ্ণতা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আরও বৃদ্ধি পাবে।

সূত্র: বিবিসি

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading