তিন বছরের বেশি সময় কোমায় থাকার পর থাই রাজকুমারীর মৃত্যু
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, আপডেট ১১:২৫
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কোমায় থাকা থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা মারা গেছেন বলে রাজপরিবার জানিয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নিজের পোষা কুকুরদের নিয়ে ব্যায়াম করার সময় বজ্রকিতিয়াভা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকদের মতে, হৃদযন্ত্রে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট গুরুতর অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের (হার্ট অ্যারিথমিয়া) ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে থাই রাজপরিবার তাদের সবচেয়ে দৃশ্যমান ও কৃতী সদস্যদের একজনকে হারাল। একই সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তরাধিকার প্রশ্নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন বলে মনে করা হতো।
বজ্রকিতিয়াভা ছিলেন থাইল্যান্ডের রাজা ভাজিরালংকর্ন-এর সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন রাজার প্রথম স্ত্রী ও চাচাতো বোন সোমসাওয়ালির ঘরে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে রাজপ্রাসাদ জানায়, ‘চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা দিয়েছিল, কিন্তু তার (বজ্রকিতিয়াভা) শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তিনি আগের দিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’
প্রতিবেদন অনুসারে, রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নিউইয়র্কে থাইল্যান্ডের জাতিসংঘ মিশনে কাজ করেন। পরে দেশে ফিরে ব্যাংককসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি অস্ট্রিয়া-তে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
২০২১ সালে তার পিতা তাকে রাজকীয় ব্যক্তিগত দেহরক্ষী বাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন এবং জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করেন।
রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা শরীরচর্চাতেও আগ্রহী ছিলেন এবং প্রায়শই দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়ে অংশ নিতেন।
সূত্র: বিবিসি
ইউডি/কেএস

