হাম রোগে প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৯:
স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি নিউমোনিয়া রোগী ভর্তি হচ্ছে রাজধানীর শিশু হাসপাতালে।
চিকিৎসকরা বলছেন, দুই ধরনের নিউমোনিয়া ভোগাচ্ছে শিশুদের। হাম পরবর্তী জটিলতা কমাতে ভিটামিন-এ’র ডোজ দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
তিন মাসেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি হামের সংক্রমণ। এখনও আক্রান্ত গড়ে প্রতিদিন হাজারের ওপরে। এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬০০। মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক লাখ।
তবে, এরমধ্যে হাসপাতালে হামের রোগী কমার দাবি করছেন চিকিৎসকেরা। এখন দুশ্চিন্তা সংক্রমণ পরবর্তী জটিলতা নিয়ে।
শিশু হাসপাতালে এক হাম রোগীর মা বলেন, সদর হাসপাতালে পাঁচদিন ছিলাম সেখানে হাম ধরা পড়েছে। আরও পাঁচদিন হামের চিকিৎসা করা হয়েছে। ভালো হয়নি। এখন ঢাকায় শিশু হাসপাতালে নিয়ে।
আরেক মা বলেন, গ্রামের চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়াইছি। এরপর মানিকগঞ্জে শিশু হাসপাতালে ১২ দিন রেখেছি। ওখানকার চিকিৎসায়ও ভালো হয়নি। তাই এই হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
চিকিৎসকরা বলছেন, হামের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়ছে। স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে শিশু হাসপাতালে। দুই ধরনের নিউমোনিয়ায় অবস্থা বেশি খারাপ হচ্ছে শিশুদের।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, যাদের পোস্ট মিডিলস নিউমোনিয়া হচ্ছে সাধারণ তাদের ইমিউনিটি কমে যাচ্ছে। এতে অন্যান্য ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা ইনফেকশন হচ্ছে। এই ভাইরাস ব্যাকটেরিয়ার কারণে চিকিৎসায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
হাম পরবর্তী জটিলতা কমাতে আক্রান্ত ও সুস্থ হওয়া শিশুদের দুই ডোজ ভিটামিন-এ দেয়ার পরামর্শ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কামরুজ্জামান কামরুলের।
তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত রোগীদের প্রত্যেকে দুটো করে ভিটামিন-এ ট্যাবলেট প্রথম ও দ্বিতীয় দিন খাওয়াতে হবে। কিন্তু যাদের কনজাংটিভাইটিস আছে তাদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল তিনটি খেতে হবে। প্রথম, দ্বিতীয় ও ১৪তম দিনে এই তিনটি ক্যাপসুল খেতে হবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ৫০ হাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট, ছয় মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত ১ লাখ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট এবং ১ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২ লাখ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিটে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল যদি প্রথম ও দ্বিতীয় দিন দিয়ে দেয়া হয়। তাহলে ইনফেকশনগুলো প্রতিরোধ করা যাবে।
ইউডি/রেজা

