দেশে হামের ‘প্রথম’ চিকিৎসা নির্দেশিকা আনল হলি ফ্যামিলি মেডিকেল

দেশে হামের ‘প্রথম’ চিকিৎসা নির্দেশিকা আনল হলি ফ্যামিলি মেডিকেল

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৪:২৫

দেশে হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে রোগটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা বা গাইডলাইন প্রকাশ করেছে বেসরকারি হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ।

মঙ্গলবার সকালে ইস্কাটনে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ বলছে, এটিই ‘দেশের প্রথম’ প্রাতিষ্ঠানিক হাম চিকিৎসা নির্দেশিকা। এ নির্দেশিকাটি প্রণয়ন করা হয়েছে রোগটির চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে ‘মানসম্মত ও সমন্বিত’ করার লক্ষ্যে, যা মেনে চলবে হলি ফ্যামিলি মেডিকেল।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নতুন এই নির্দেশিকা প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কেবল রোগীর চিকিৎসাই নয়, বরং বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণেও অগ্রণী ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।”

নির্দেশিকায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তার মধ্যে রয়েছে—হামজনিত নিউমোনিয়ায় কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করা যাবে না, চোখের জটিলতায় স্টেরয়েড ড্রপ ব্যবহার করা যাবে না এবং গুরুতর পানিশূন্যতায় কেবল ডেক্সট্রোজ স্যালাইন ব্যবহার বারণ করা হয়েছে নির্দেশিকায়।

বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এসব ভুল অতীতে বহু রোগীর জীবনহানির কারণ হয়েছে বলে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।

এ নির্দেশিকা নিয়ে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সায়েম মোহাম্মদ।

তিনি বলেন, ১৪টি ক্লিনিক্যাল মডিউল নিয়ে প্রণীত ৫০ পৃষ্ঠার এই নির্দেশিকাটির প্রধান সম্পাদক চিকিৎসক ফারহানা হক ও সায়েম মোহাম্মদ।

চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ দেখা দেয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর ১৫ মার্চ থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোগটি নিয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্যউপাত্ত সংরক্ষণ শুরু করে। এর মধ্যে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৬৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ২০ বছরে হামে এতো মৃত্যু দেখেনি বাংলাদেশ।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুসারে, ২০০৫ সালে ২৫ হাজারের বেশি শিশু আক্রান্ত হয়েছিল।

হলি ফ্যামিলির হাম চিকিৎসা নির্দেশিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে দাবি করা হয়েছে, এর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো হাসপাতাল বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হাম ও এর জটিলতা ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের মানসম্মত ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা প্রোটোকল ছিল না।

এ নির্দেশিকাকে ‘জাতীয় হাম চিকিৎসা প্রোটোকল’ হিসেবে গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এর প্রধান সম্পাদক ফারহানা হক ও সায়েম মোহাম্মদ। পাশাপাশি তারা হাসপাতাল স্বীকৃতি প্রক্রিয়ায় আইসোলেশন কক্ষ ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন।

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কে এম মজিবুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক হারুন-অর-রশীদ, মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিল, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক শাহীন রহমান চৌধুরী, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মেহেরুন নেসা।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading