ইরানের সঙ্গে ‘ইলেকট্রনিক্যালি’ চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে: ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে ‘ইলেকট্রনিক্যালি’ চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে গেছে: ট্রাম্প

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৪:৫৯

ইরানের সঙ্গে যে আমেরিকার আলোচিত সমঝোতা চুক্তিটি ডিজিটাল মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সোমবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শিল্পোন্নত ৭ দেশের জোট জি ৭-এর সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, “চুক্তিটি ইলেকট্রনিক্যালি স্বাক্ষর করা হয়ে গেছে। এখন শুধু কাগজে কলমে স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা বাকি। আগামী ১৯ জুন জেনেভায় সেটি হবে। আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে (মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট) জে ডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন।”

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে ঘিরে টানাপোড়েনের জেরে টানা ৪০ দিন ধরে সংঘাত এবং তারপর যুদ্ধবিরতির নামে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থবির অবস্থার পর গত মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে নতুন এই চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল আমেরিকা। গত ৬ মে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছিলেন, “আমরা একটি সমঝোতা চুক্তির খসড়া ইরানের কাছে পাঠিয়েছি, আশা করছি শিগগিরই একটা মীমাংসায় আমরা পৌঁছাতে পারব।”

আমেরিকা খসড়া পাঠানোর পর সেটির ব্যাপারে ইরানকে রাজি করাতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ পাকিস্তান এবং কাতার। দুই দেশের ব্যাপক তৎপরতার ফলেই প্রায় দেড় মাস পর চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মত হয় ইরান।

ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং নামের এই চুক্তিটি মূলত আমেরিকা ও ইরানের মধ্য প্রস্তাবিত স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথে প্রাথমিক পদক্ষেপ।

চুক্তির খসড়ার বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ করেনি আমেরিকা কিংবা ইরান। ফলে প্রস্তাবিত চুক্তির ১৪টি পয়েন্টে কী কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে আমেরিকা, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে খসড়ার পয়েন্টগুলো সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পেয়েছে এএফপি। এ পয়েন্টগুলো হলো—

ক) যাবতীয় হামলা-সহিংসতা (চুক্তি স্বাক্ষরের পর) তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হবে।

খ) (চুক্তি স্বাক্ষরের পর) বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে।

গ) ইরানের বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে আমেরিকা।

ঘ) সমঝোতা চুক্তির পর চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ৬০ দিনের যে সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে এই সময়কালে ইরানের ওপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করবে না যুক্তরাষ্ট্র।

ঙ) ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যেসব নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেগুলো সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।

চ) সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর বিষয়ক আলোচনা শুরু হবে, এই আলোচনার মেয়াদকাল হবে ৬০ দিন।

ছ) বিদেশি বিভিন্ন ব্যাংকে ইরানের অর্থ ফ্রিজড অবস্থায় আছে, সেগুলো মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জ) ইরানকে অবশ্যই ইউরেনিয়াম বিশুদ্ধকরণ থামাতে হবে এবং পরমাণু প্রকল্প সংক্রান্ত স্থাপনার সম্প্রসারণ বন্ধ করতে হবে।

ঝ) মূল শান্তি চুক্তির জন্য যে ৬০ দিনের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে, এই মেয়াদকালের মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আলোচনা হবে এবং এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঞ) মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট) যুদ্ধের কারণে ইরানের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্গঠন সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হবে।

ঠ) চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির খসড়া প্রস্তুত সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হবে।

ড) ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষরের পর ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, পুনর্গঠন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করবে আমেরিকা।

গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা বার্তায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিংকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

একই দিন সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকার জে ডি ভ্যান্স বলেছেন, “১৯ জুন জেনেভায় যে চুক্তিটি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে, সেটি এক থেকে দেড় পৃষ্ঠার একটি সমঝোতাপত্র। চুক্তি স্বাক্ষরের দু’দিনের মধ্যে এটি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করা হবে।”

সূত্র : রয়টার্স, জিও টিভি

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading