রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে আরও ১০ জেলা: রেলমন্ত্রী

রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে আরও ১০ জেলা: রেলমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৭:৪৬

দেশের রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আরও ১০টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রেল যোগাযোগের আওতায় আনার জন্য প্রাথমিকভাবে মেহেরপুর, শেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দেশের রেল যোগাযোগ, সেবার মান এবং চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং রেলসেবার সম্প্রসারণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি জানান, আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-সিলেট অংশে বিদ্যমান মিটারগেজ লাইনের পরিবর্তে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের বিষয়েও সরকার বাস্তব পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে কুমিল্লার দূরত্ব প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার কমে আসবে এবং রেল যোগাযোগ আরও দ্রুত ও সহজ হবে।

বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের সব ৬৪ জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। এ লক্ষ্যে নতুন রেললাইন নির্মাণ ও সেবা সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীর আশপাশের জেলাগুলোতে কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-মানিকগঞ্জ রুটে নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে কর্মজীবী মানুষ স্বল্প সময়ে যাতায়াতের সুবিধা পাবেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলো সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। শুধু রেললাইন নির্মাণ নয়, একই প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ ও কোচ সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হবে। ফলে রেললাইন নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেন পরিচালনা শুরু করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে রেললাইন নির্মাণ হলেও পর্যাপ্ত ট্রেন, কোচ ও ইঞ্জিনের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। নতুন পরিকল্পনায় এ ধরনের বিচ্ছিন্নতা থাকবে না এবং সব প্রকল্প সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading