ফুটবলের বাইরে কয়েকটা কঠিন ও জটিল দিনের মধ্য দিয়ে গেছি: মেসি
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, আপডেট ১১:৪০
আর্জেন্টিনার শুরুটা বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মতোই হলো। আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। রেকর্ড ষষ্ঠ আসরে এসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকের দেখা পেলেন লিওনেল মেসি। দারুণ হ্যাটট্রিকে দলে বড় জয় নিশ্চিতের পাশাপাশি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সবার ওপরে থাকা মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসেছেন এই ৩৮ বছর বয়সী কিংবদন্তি। তবে, ম্যাচ শেষে মেসি জানান, বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্যক্তিগত জীবনে কিছু কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কার গ্রহণের সময় মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফুটবলের বাইরে আমি কয়েকটা কঠিন ও জটিল দিনের মধ্য দিয়ে গেছি। পুরো দল, আমার সতীর্থরা সবসময় আমার পাশে ছিল। তারা আমাকে এই সময়টা পার করে উঠতে অনেক শক্তি দিয়েছে, এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
ম্যাচ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। আলজেরিয়ার খুব ভালো খেলোয়াড় আছে, তারা দ্রুতগতির এবং প্রচণ্ড পরিশ্রমী। আমরা যদি তাদের বলের নিয়ন্ত্রণ দিতাম, তাহলে তারা সুযোগ তৈরি করতে পারত। তবে বল ছাড়া অবস্থায় আমরা ভালোভাবে নিজেদের গুছিয়ে রেখেছিলাম। শুরুতে গোল পেয়ে আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নিতে পেরেছি, যদিও সবসময় যেভাবে বল দখলে রেখে খেলি, সেভাবে নয়।’
প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধের পার্থক্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমাদের কিছুটা কষ্ট হয়েছে, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে চিত্রটা ভিন্ন ছিল। এটা স্বাভাবিক। কোনো বড় টুর্নামেন্টের, বিশেষ করে বিশ্বকাপের, প্রথম ম্যাচ সবসময় কঠিন হয়। গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। এই বিশ্বকাপে কেউ কাউকে কোনো সুযোগ ছেড়ে দিচ্ছে না। সব দলই শক্তিশালী, নিজেদের খেলার ধরণ আছে, ভালো কোচিং রয়েছে। প্রতিটি ম্যাচই হবে খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও শারীরিকভাবে কঠিন।’
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নিজের অবস্থান নিয়ে মেসি খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তিনি বলেন, ‘আমি ফুটবল খেলতে ভালোবাসি। ছোটবেলা থেকেই এটা আমার আবেগ। যখন নিজেকে ভালো অনুভব করি, তখন নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চাই। আমরা এখন রাফায়েল নাদালের ডকুমেন্টারি দেখছি, আর আমি তার সঙ্গে অনেকটা মিল খুঁজে পাই। আমিও সবসময় নিজের সেরাটা দিতে চাই। যতদিন পারব এবং শারীরিকভাবে সক্ষম থাকব, ততদিন মাঠে থাকব।’
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি বলতে, না, আমি এটাকে খুব গুরুত্ব দিই না। অবশ্যই মিরোস্লাভ ক্লোসা, রোনালদো নাজারিওদের মতো কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম দেখতে ভালো লাগে। কিন্তু এটা শেষ পর্যন্ত শুধু একটা পরিসংখ্যান। কিলিয়ান এমবাপ্পেও আজ দুটি গোল করেছে। এটা কেবল সংখ্যা মাত্র। রোনালদো ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার, অথচ তিনি তালিকার এক নম্বরে নেই। তাই এসব শেষ পর্যন্ত শুধু পরিসংখ্যানই।’
ইউডি/কেএস

