ভিয়েতনামে মাংসের জন্য চুরি করা চার শতাধিক বিড়াল উদ্ধার

ভিয়েতনামে মাংসের জন্য চুরি করা চার শতাধিক বিড়াল উদ্ধার

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৬:১০

ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরে মাংস বিক্রির জন্য বিড়াল চুরি করে এমন একটি চক্রকে পাকড়াও করেছে দেশটির পুলিশ। পাশাপাশি ওই চক্রের কাছ কাছ থেকে চার শতাধিক বিড়াল উদ্ধার করেছে। স্থানীয় প্রাণীকল্যাণ সংস্থা ও গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে এএফপি।

প্রাণীকল্যান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কয়েকদিনব্যাপী অভিযানের পর বিড়ালগুলো উদ্ধার করা হয়। এরই মধ্যে ৪০টিরও বেশি বিড়ালকে তাদের মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উদ্ধারকৃত বিড়ালগুলোর মধ্যে কয়েক ডজন মারা গেছে।

দীর্ঘদিন অলাভজনক আন্তর্জাতিক প্রাণীকল্যান সংস্থা ‘হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালস’-এর হয়ে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়াবিরোধী প্রচারণা চালিয়ে আসছেন করণভীর কুকরেজা। গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই অভিযানটি ভিয়েতনামের বিড়ালের মাংস ব্যবসার ‘বিশাল পরিধির এক উদ্বেগজনক স্মারক’।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হো চি মিন সিটিতে পোষা প্রাণী চুরির ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ বিড়ালের মাংস পাচারকারী একটি চক্রকে শনাক্ত করে এবং অভিযান চালিয়ে নয়জনকে আটক করে। পুলিশ দলটিকে ‘বিড়াল চুরি ও সংগ্রহে বিশেষজ্ঞ একটি অপরাধী চক্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

হো চি মিন সিটি ক্রিমিনাল পুলিশ ডিভিশনের তথ্যমতে, কর্মকর্তারা প্রায় ৪০০টি জীবিত বিড়ালসহ ৪৫টি খাঁচা এবং প্রায় ৮০টি মৃত বিড়ালসহ বরফ ভর্তি চারটি ফোমের পাত্র উদ্ধার করেন। এছাড়া অন্য একটি স্থান থেকে ২১টি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা গত তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি, তাই নিন এবং আন জিয়াং শহরজুড়ে ফাঁদ পেতে বিড়াল ধরার ও সংগ্রহ করার কথা স্বীকার করেছে। কুকরেজা বলেন, ভিয়েতনামে লক্ষ লক্ষ প্রাণী কুকুর ও বিড়াল চোরদের শিকার হয়, যারা রাস্তা থেকে প্রাণী ছিনিয়ে নেয় বা পরিবারের পোষা প্রাণী চুরি করে এবং মানুষের খাওয়ার জন্য সেগুলোকে জবাই করে।

অলাভজনক সংস্থা ‘ভিয়েতনাম ক্যাট ওয়েলফেয়ার’-এর ক্রিস গিন্ডেলহিউমার উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলোর যত্ন নিতে সাহায্য করছেন। তিনি বলেন, তিনি ‘গত কয়েকদিনে অনেকের চোখে পানি দেখেছেন’। তিনি বলেন, ‘এত ভিয়েতনামি পরিবার যে তাদের বিড়ালদের খুঁজতে আসছে, তা দেখাটা সত্যিই সুন্দর। কিন্তু এটা হৃদয়বিদারকও, কারণ অনেক পরিবার তাদের বিড়াল খুঁজেছিল কিন্তু তাদের খুঁজে পায়নি।’

গিন্ডেলহিউমার বলেন, অনেক পশুচিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবক বিড়ালদের জন্য দিনরাত কাজ করছেন। ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বৈধ। তবে পশুগুলোর উৎস যাচাই করার জন্য বিক্রেতাদের অবশ্যই অনুমতিপত্র থাকতে হয়। কিন্তু মধ্য ভিয়েতনামের হোই আন-এর মতো কিছু শহর কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া বন্ধ করার জন্য বৈশ্বিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করছে।

২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ করার কিছুদিন পরেই ভিয়েতনামের কর্মকর্তারা বলেন, পোষা প্রাণী এবং তাদের মালিকদের অধিকার আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত করার জন্য সরকার আইন ব্যবস্থার কিছু অংশ সংস্কার করার পরিকল্পনা করছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading