নাইজারের প্রধান বিমানবন্দরে হামলা, সেনাসদস্যসহ নিহত ৩৫

নাইজারের প্রধান বিমানবন্দরে হামলা, সেনাসদস্যসহ নিহত ৩৫

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৪:১০

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের বৃহত্তম ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত বিমানবন্দরটিতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। গত পাঁচ মাসের মধ্যে এই বিমাবন্দরে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলা।

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং ২ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষ করার পরপরই তারা ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিকট বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ শুনতে পান। বিমানবন্দরটির কাছেই একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।

লাওয়ালি সালহা নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, “ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে আমাদের নামাজ শেষ হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই আমরা একটি বিকট শব্দ শুনতে পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো কোন গাড়ির টায়ার পাংচার হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা বুঝতে পারি যে সেখানে আসলে কী ঘটছে।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন জামাত নুসরত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে নিহত ২২ হামলাকারী ছাড়াও আরও চারজন হামলাকারী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- আরপিজি-৭ লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক ও গ্রেনেড, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং হাজার হাজার রাউন্ড গুলি।

বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিরাপত্তা বাহিনী পলাতক হামলাকারীদের ধরতে চিরুনি অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারাও লাঠি ও দা নিয়ে অংশ নেন। তবে নিরাপত্তা কর্মীরা বেসামরিক নাগরিকদের এই অভিযানে অংশ নিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বিবিসিকে বলেন, “হামলাকারীরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় তাদের খুঁজে বের করা কঠিন ছিল। তাই এলাকার মানুষ অপরিচিত কাউকে দেখলেই প্রতিহত করার জন্য লাঠি ও দা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে।”

বর্তমানে বিমানবন্দর এলাকাটি লকডাউন করে রাখা হয়েছে এবং সব ধরনের যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলী ইউসুফ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সাহসিকতার সঙ্গে হামলা প্রতিহত করার জন্য নাইজারের সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেছেন।

ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি নাইজারের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। এটি একই সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল এবং সামরিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া মালি, বুর্কিনা ফাসো এবং নাইজারকে নিয়ে গঠিত ‘অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস’ এর বিভিন্ন স্থাপনাও এখানে রয়েছে। এই তিনটি দেশই বর্তমানে সামরিক জান্তা দ্বারা শাসিত হচ্ছে।

গত এক দশক ধরে নাইজার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে আইএস সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী একই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল। এতে ২০ জন হামলাকারী নিহত এবং ৪ জন সেনা সদস্য আহত হন।

সে সময় নাইজারের সামরিক সরকারের প্রধান আবদুরাহমানে তিয়ানি হামলা নস্যাৎ করতে সহায়তা করার জন্য রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি তিনি ফ্রান্স, বেনিন এবং আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্টদের বিরুদ্ধে এই হামলায় ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন, যদিও এর পক্ষে কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ‘সন্ত্রাসী ঝুঁকির’ অজুহাতে বিমাবন্দর সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকা উচ্ছেদ করেছে নাইজার কর্তৃপক্ষ।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading