অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে: ডা. জাহিদ

অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে: ডা. জাহিদ

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, আপডেট ১২:০০

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মতো অন্য দেশ থেকে অঙ্গ এনে বাংলাদেশে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই কিডনি, লিভারসহ অন্যান্য অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর কিডনি ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও কর্মশালায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “লিভার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তবে জীবিত ও মৃতদাতা (ক্যাডাভেরিক) উভয় উৎস থেকেই কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।”

তিনি কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদের নেতৃত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনে কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অতিথিদের বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক স্বাগত জানান। বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, তাদের এ সফর শুধু সৌজন্য সফর নয়; বরং জ্ঞান বিনিময় ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে।”

ডা. জাহিদ বলেন, “বিদেশি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। বাস্তবতা হলো, এ দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে। দেশের মানুষকে অঙ্গদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।”

তিনি জানান, অঙ্গদান কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে আইনি বিধিমালায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এখনও অনেক পথ বাকি। জনগণকে আরো সচেতন ও সম্পৃক্ত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। শুধু চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস বা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এত বিশাল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। তাই কিডনি রোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রোগ প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল উপায়।”

তিনি নেফ্রোলজিস্ট, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত দেশগুলোর সহযোগিতা পাওয়া যাবে, কিন্তু নেতৃত্ব দিতে হবে আমাদেরই। জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি জাতীয় সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ (সিকেডি) ও শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগের (ইএসআরডি) সংখ্যা কমানো যায় এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজনও হ্রাস পায়।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এটি শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়; বরং পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কার্যকর পরিবর্তন আনা সম্ভব।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-কোরিয়া ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স বাংলাদেশ, কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করবে।

সম্মেলনে বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন রুবেল, কোরিয়ার ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারের অধ্যাপক কুরি আহন, ট্রান্সপ্লান্টেশন জার্নালের সম্পাদক-ইন-চিফ অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান, দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব কোরিয়ার কলেজ অব মেডিসিনের এমেরিটাস অধ্যাপক ইন সুং মুন এবং ড্যানভিট ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হি ইয়ং শিনসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।

কর্মশালায় বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান কার্যক্রমের নীতিমালা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালভিত্তিক অঙ্গদান ব্যবস্থা এবং একটি কার্যকর জাতীয় অঙ্গদান কর্মসূচি গড়ে তোলার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে চিকিৎসা শিক্ষা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ উদ্যোগ দেশের কিডনি চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading