আজ রাজধানীতে ১২ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, আপডেট ০৮:০০
জাতীয় ক্যাম্পেইনের আওতায় আজ রবিবার (২৮ জুন) রাজধানীতে প্রায় ১২ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঢাকায় সকাল ৮টা থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে তিন হাজার ৬৬৫টি কেন্দ্র চালু থাকবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থানকারী শিশুদের লক্ষ্যমাত্রার আওতায় আনতে অ্যাম্বুলেন্সে ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রও পরিচালিত হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ছয় লাখ আট হাজার ৭৫১ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ লাখ ৯০ হাজার ৫৩৮ জন। অর্থাৎ দুই সিটি করপোরেশনে ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ১১ লাখ ৯৯ হাজার ২৮৯ শিশু।
গতকাল শনিবার (২৭ জুন) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক বলেন, ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ডিএসসিসিতে ৬-১১ মাস বয়সী ১ লাখ ১ হাজার ২০৪ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৫ লাখ ৭ হাজার ৫০৭ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
ডিএনসিসি জানায়, ৫৪টি স্থায়ী কেন্দ্রসহ মোট ১ হাজার ৯০৫ কেন্দ্র খোলা থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন করে মোট ৩ হাজার ৮১০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া মাঠপর্যায়ে তদারকির জন্য ১৮৩ জন প্রথম সারির এবং ১০৩ জন দ্বিতীয় সারির সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন।
ডিএনসিসি আরও জানায়, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, বস্তিবাসী এবং বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থানকারী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য ডিএনসিসির পক্ষ থেকে চারটি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হবে।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানায়, ৬-১১ মাস বয়সী ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০৬ জন শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩২ জন শিশুকে একটি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
ক্যাম্পেইনের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডিএসসিসি এলাকার ১ হাজার ৭৬০টি কেন্দ্রে একযোগে এই কার্যক্রম চলবে। মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি সফল করতে প্রায় ৩ হাজার ৬৫৪ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ১৫০ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত থাকবেন।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই জাতীয় কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমসহ সকল অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সরবরাহকৃত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষিত এবং শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে, নির্ধারিত সময়ে শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে এসে ক্যাপসুল খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান থাকবে।
ডিএসসিসি জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রাসেল রহমান জানান, রোববার সকাল ১০টায় ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোডস্থ কাকলী হাইস্কুল এন্ড কলেজে স্থাপিত কেন্দ্রে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
অন্যদিকে ডিএনসিসি জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, মিরপুর ১০ এফ পি সেন্টারস্থ রাড্ডা এমসিএসে স্থাপিত একটি কেন্দ্রে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। এতে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খানসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ইউডি/কেএস

