ব্রাজিলের সামনে এখন আইভরি কোস্ট বা নরওয়ে, রয়েছে ‘অম্লমধুর’ রেকর্ড
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, আপডেট ১৬:০০
জাপানকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা ব্রাজিল এখন বিশ্বকাপের পরবর্তী মিশনের অপেক্ষায়। সেলেসাওদের লক্ষ্য এখন শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত করা। আগামী ৬ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে কারা আসছে, তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। মঙ্গলবার রাতেই নির্ধারিত হবে সেই নাম। হয় আইভরি কোস্ট, নয়তো নরওয়ে। এই প্রতিপক্ষ নির্বাচনের ওপর ভিত্তি করেই কি ব্রাজিলের ভাগ্য ঝুলে আছে? পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এক দলের বিপক্ষে ব্রাজিলের রাজকীয় রেকর্ড থাকলেও, অন্য দলের নাম শুনলেই যেন পুরনো ভয় তাড়া করে ফেরে সেলেসাওদের।
আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ব্রাজিলের পরিসংখ্যান বেশ স্বস্তিদায়ক। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের দেখা হয়েছিল মাত্র একবার ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে ৩-১ গোলের সহজ জয় তুলে নিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লুইস ফ্যাবিয়ানোর জোড়া গোল আর এলানোর একটি গোলে নিশ্চিত হয়েছিল জয়। যদিও সেই ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তারকা ফুটবলার কাকাকে, তবুও জয়ের পথে কোনো বাধা আসেনি। আইভরি কোস্টের হয়ে সেবার একমাত্র গোলটি করেছিলেন দিদিয়ের দ্রগবা।
অন্যদিকে, নরওয়ের নাম শুনলেই যেন ব্রাজিলের গায়ে কাঁটা দেয়। ফুটবল ইতিহাসের অনন্য এক পরিসংখ্যান হলো, নরওয়ের বিপক্ষে এ পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েও একবারের জন্যও জয়ের দেখা পায়নি ব্রাজিল। তাদের বিপক্ষে সেলেসাওদের জয়হীন যাত্রায় হারের স্বাদ নিতে হয়েছে দুইবার, আর ড্র হয়েছে বাকি দুই ম্যাচ।
বিশেষ করে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের কথা ফুটবলপ্রেমীদের আজও মনে আছে। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল নরওয়ে। সেই ম্যাচে সেলেসাওদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছিলেন বেবেতো। এর বাইরে ১৯৯৭ সালের এক প্রীতি ম্যাচে ৪-২ গোলের পরাজয় এবং ১৯৮৮ ও ২০০৬ সালের ড্র ম্যাচগুলো ব্রাজিলের জন্য সুখকর স্মৃতি হয়ে থাকেনি।
আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে ব্রাজিল। এখন দেখার বিষয়, শেষ ষোলোর লড়াইয়ে তারা কি তাদের পুরোনো প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্টকে পাচ্ছে, নাকি সেই নরওয়েকে যারা এখন পর্যন্ত ব্রাজিলের জন্য এক ‘ধাঁধা’ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ইউডি/কেএস

