মেডিকেল কলেজে ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ কোর্স চালু করা উচিত: ডা. জাহিদ
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৫:১০
দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রত্যেকটি পুরোনো মেডিকেল কলেজে দ্রুত ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ (নিবিড় পরিচর্যা) কোর্স চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।
চিকিৎসা খাতের অগ্রগতি ও বিভিন্ন বিভাগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, সময়ের প্রয়োজনে এবং মানুষের কল্যাণে প্রতিটি চিকিৎসা বিভাগকে নিজস্বভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
২০০৪ সালের স্মৃতিচারণ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে যখন দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও পোস্ট গ্রাজুয়েট ইনস্টিটিউটে নতুন নতুন সাবজেক্টের ওপর কোর্স খোলা হয়েছিল, তখন অনেকেই সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু আজ ২২-২৪ বছর পরের বাস্তবতা হচ্ছে—সেদিন যদি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির এই উদ্যোগ নেওয়া না হতো, তবে আজকের দিনে এসে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ত। এমনকি কোভিড মহামারির সময়েও আমরা যে সফলভাবে চিকিৎসা দিতে পেরেছি, তা মূলত ওই সময়ে দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছিল বলেই সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই বাংলাদেশে প্রথম ক্রিটিক্যাল কেয়ার কোর্স চালু করার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তৎকালীন সময়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশনেত্রীর নির্দেশে আমি আমেরিকার মেও ক্লিনিক, সিডিসি আটলান্টা, জনস হপকিন্সসহ ১৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন করি। সেখান থেকে ফিরে এসে নার্সিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, উন্নত ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্ট এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ারের ঘাটতি পূরণের ওপর জোর দিই, যা পরবর্তীতে বাস্তবায়ন করা হয়।
চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, অ্যানাস্থেসিওলজি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক ও সম্পূরক। চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো একটি বিভাগ এককভাবে চলতে পারে না, সব ডিপার্টমেন্টের সমন্বিত সহযোগিতাই হচ্ছে ‘হেলথ’। তাই যখন যার সময় আসবে, তাকে তার কাজের ক্ষেত্র ও বড় হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জোবায়দা রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ প্রমুখ।
ইউডি/কেএস

