প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইসিইউ সংকট: স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে ডা. জুবাইদার গভীর উদ্বেগ

প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইসিইউ সংকট: স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে ডা. জুবাইদার গভীর উদ্বেগ

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০১ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৬:৫৬

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসা প্রাপ্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক জুবাইদা রহমান।

তিনি জানান, দেশের সিংহভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও জীবনরক্ষাকারী ক্রিটিক্যাল কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোর (আইসিইউ) প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রিক। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা তীব্র স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান দেশের ক্রিটিক্যাল কেয়ার খাতের কিছু ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে বলেন, দেশে প্রতি এক লক্ষ জনগণের বিপরীতে সাধারণ হাসপাতাল বেড রয়েছে মাত্র নয়টি। আর ক্রিটিক্যাল কেয়ার সুবিধার সংখ্যা প্রতি এক লক্ষে মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৮টি জেলার স্থানীয় হাসপাতালে কোন ক্রিটিক্যাল কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র নেই। দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করলেও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সজ্জিত আইসিইউগুলো মূলত বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংকট নিয়ে তিনি বলেন, দেশে স্পেশালিস্ট ইন্টেন্সিভিস্টের (নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ) সংখ্যা অত্যন্ত কম। বর্তমানে এনেস্থেটিস্ট ও নিউরোলজিস্টরা এই দায়িত্ব পালন করছেন। আইসিইউ শয্যা ও বিশেষজ্ঞের ঘাটতির কারণে অনেক সময় চিকিৎসকরাও নিরুপায় হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতি উত্তরণে আরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা উপকরণের ওপর জোর দেন তিনি।

ডা. জুবাইদা চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে দূরত্ব এবং অপর্যাপ্ত যানবাহন ব্যবস্থাকে একটি বিরাট অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, যথাযথ আইসিইউ সুবিধা না থাকা, সাধারণ অ্যাম্বুলেন্সগুলো অপ্রস্তুত থাকা রোগীদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রত্যন্ত গ্রামে সরাসরি ক্রিটিক্যাল কেয়ার প্রদান সম্ভব না হলেও, অন্তত যেন লাইফ-সাপোর্ট সম্বলিত উন্নত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে আনা যায় সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সাথে জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জনসংখ্যা বিশাল এবং সামর্থ্য সীমিত হলেও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই বাস্তবতার পরিবর্তন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে সুনির্দিষ্ট সংকল্প ও সুষ্ঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে আর কোন দেশবাসী গুরুতর অসুস্থতার সময় বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না। একটি অকাল মৃত্যু পুরো পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে দেয়। আগামীতে যেন ক্রিটিক্যাল চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুহার আর না বাড়ে, আমাদের সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

এই সংকট কাটাতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন আগামীতে বিরাট অবদান রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading