টাইব্রেকারে জিতে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিসর

টাইব্রেকারে জিতে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় মিসর

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ০৭:২০

১৯৩৪ বিশ্বকাপেই কেবল নকআউটে খেলেছিল মিসর। যদিও ওই আসরই ছিল সরাসরি নকআউট পদ্ধতিতে, যেখানে হাঙ্গেরির কাছে হেরে তাদের যাত্রা শেষ হয়। ৯২ বছর পর চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে ‍উঠেই মোহামেদ সালাহ’র দল ইতিহাস গড়েছিল। এবার টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবার শেষ ষোলোয় উঠল মিসর।

অস্ট্রেলিয়া নকআউটে প্রথম জয়ের অপেক্ষায় নেমেছিল টেক্সাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে। ভাগ্যের ছোঁয়ায় তারা ম্যাচে সমতাও টেনেছিল। ৫৫ মিনিটে ১-১ সমতা হয় স্কোরলাইনে। তবে ৯০ মিনিটের বাকি সময় এবং অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১২০ মিনিটেও তাতে আর কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি কেউই। এরপর সকারুজদের হৃদয় ভেঙে মিসর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলো।

অস্ট্রেলিয়া টাইব্রেকারের শুরুটাই করেছে মিস দিয়ে, হ্যারি শুটারের শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এরপর তাদের চতুর্থ শট নেওয়া লুকাস হেরিংটনও ভুলে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন। বিপরীতে মিসরের পক্ষে শট নেওয়া চারজনই (মাহমুদ সাবের, রামি রাবিয়া, মোহামেদ সালাহ ও আবদেল মাজিদ) জালে জড়িয়েছেন বল। ফলে আর পঞ্চম শট নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। জয় নিশ্চিত হয় ৪-২ ব্যবধানে।

ম্যাচজুড়েই অবশ্য আধিপত্য ছিল মিসরের। ৫৮ শতাংশ পজেশন রাখা সালাহ’র দল ১৪ শটের মধ্যে ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। বিপরীতে সকারুজদের ১৬ শটের স্রেফ একটি লক্ষ্যে ছিল। এর আগে ম্যাচের ১৩ মিনিটে মিসর লিড পায় ইমান আশুরের দারুণ এক হেডে দেওয়া গোলে। আর ৫৫ মিনিটে মিসরের মোহাম্মদ হানির দেওয়া আত্মঘাতী গোলে অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফেরে।

সাতবার আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হলেও মাত্র চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলছে মিসর। এ ছাড়া আগের তিন আসরে তারা কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি। সালাহ’র দল এবার নকআউট নিশ্চিত করে এক জয় ও দুই ড্রতে। শেষ ৩২–এর ম্যাচটিতে চোট থেকে ফিরেও নিজের মতো করে এই লিভারপুল ও মিসরীয় কিংবদন্তি একের পর এক সুযোগ তৈরি করেছেন। আর বাকি সতীর্থরা তার চাপ কমাতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে সম্মিলিতভাবে। আগামী ৭ জুলাই আটালান্টায় শেষ ষোলোর ম্যাচে নামবে মিসর, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দে।

এ ছাড়া সালাহ টাইব্রেকারেও গোল করেছেন ঠান্ডা মাথার এক চিপ শটে। পরে গ্যালারিভর্তি দর্শকের সঙ্গে আনন্দের অশ্রুচোখে উল্লাসে মাতেন, আর মাথায় পরেন মিসরীয় ফারাও’র মুকুট। বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে রাজ্যের হতাশা। নকআউটে তাদের প্রথম জয়ের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলো আরও চার বছরের জন্য।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading