শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে মিসরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ০০:১২

দুই গোল হজম করেও আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল। মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তারা। ১৫ মিনিটের ব্যবধানে তিন গোল দিয়ে শেষ ষোলোতে চমৎকার এক জয় পেল তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

চলতি আসরে প্রথমবার আর্জেন্টিনা পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে। শুরুতেই তারা গোল হজম করে। পেনাল্টি মিস করার কারণে গোল শোধ দিতে পারেনি তারা। মিশর ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু করে।

শুরুতেই আর্জেন্টিনার জাল কাঁপায় মিশর। ১৫ মিনিটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে।

মিশরীয় ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম ডি-বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত এক হেড করেন। বলটিকে পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালের ভেতরে পাঠান তিনি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ক্রস বাড়িয়ে এই গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন মারওয়ান আতিয়া।

১৫ মিনিটে গোল খাওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি মেসি।

তাগলিয়াফিকো মিশরের বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন। ২১ মিনিটে মেসি পেনাল্টি কিক নেন। তার বাম পায়ের শট বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা শোবেইর।

বিশ্বকাপে নেওয়া মোট ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করলেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পেনাল্টি গোল করতে পারেননি তিনি।

মেসি শটটি গোলরক্ষকের বাঁ দিক ঘেঁষে নিলেও তাতে যথেষ্ট গতি ছিল না। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা সঠিক উচ্চতায় থাকা বলটিকে দারুণভাবে প্রতিহত করেন।

গোলরক্ষক মোস্তফার জন্যও এটি এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরানের তারেমির পেনাল্টিও তিনি একইভাবে আটকে দিয়েছিলেন।

২৮ মিনিটে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা। রদ্রিগো ডি পলের ক্রসে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ডানদিকে ঝুঁকে রুখে দেন তিনি।

১০ মিনিট পর মেসির বাঁ পায়ের শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটেই তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে আলভারেজ শট নেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল রুখে দেন মোস্তফা।

আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলে। তবে মিসরের রক্ষণভাগে ৯ জন খেলোয়াড় একদম জমাট বেঁধে দাঁড়িয়ে ছিল।

মেসি শেষ পর্যন্ত কিছুটা জায়গা তৈরি করে রদ্রিগো ডি পলকে বল বাড়িয়ে দেন। কিন্তু ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া ডি পলের নিচু শটটি মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন।

পাল্টা আক্রমণ থেকে হাসানের বাড়ানো পাস ধরে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান জিকো।

এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে মিশর। জিকোর কাছ থেকে আসা একটি চমৎকার ফিনিশিংয়ে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। কিন্তু আক্রমণের শুরুর দিকে ফাউল হওয়ার কারণে গোলটি বাতিল করা হলো।

হাসানের চমৎকার দৌড়ে সালাহর পাস এবং জিকোর ফিনিশিং মিলিয়ে এটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হতে পারতো। অন্য প্রান্তে ফাউলের জন্য ফ্রি কিক দেওয়া হয়।

৬৭ মিনিটে দুই গোল হজম করার পর আর্জেন্টিনা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোলে সমতা ফেরায় তারা।

ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তারপর ডান দিক থেকে বাড়ানো মেসির একটি ক্রসে চমৎকার হেডে বল জালে জড়ান। মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের তার বাঁ হাত দিয়ে বলটি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। পোস্টের ভেতরের কোণ দিয়ে বল লাইনের ভেতরে ঢুকে পড়া আটকাতে পারেননি। মিশরীয় ডিফেন্ডাররা অফসাইডের জন্য আবেদন করলেও তা বৃথাই যায়। ৭৯ মিনিটে গোল ব্যবধান কমায় তারা।

মেসি ম্যাচের ৮৪ মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান। এই বিশ্বকাপে এটি তার অষ্টম গোল। গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বারের নিচের অংশে লেগে বলটি জোরালো শটে জালে জড়ায়। এর মাধ্যমে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল করল আর্জেন্টিনা। মেসি এই নিয়ে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন।

তারপর আর্জেন্টিনার একটি দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে বক্সের মাঝখান থেকে চমৎকার হেডে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৯২তম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজের অ্যাসিস্টে ফার্নান্দেজ তৃতীয়বার জাল কাঁপান।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading