প্রথমবারের মতো দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে চালু হচ্ছে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৩:২৫
স্টারলিংকের সহায়তায় দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা। বিটিআরসির অনুমতি নিয়ে এরইমধ্যে পার্বত্য অঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরে ‘ডাইরেক্ট টু সেল বা ডিটুসি সেবার পরীক্ষা চালাচ্ছে একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানি। এ প্রযুক্তিতে নেটওয়ার্কবিহীন দুর্গম এলাকা থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমে সরাসরি স্যাটেলাইটে যুক্ত হয়ে করা যাবে জরুরি যোগাযোগ। চলতি মাসে বাণিজ্যিকভাবে ডেটা নির্ভর ডিটুসি সেবা চালুর আশা করছে মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানটি।
দেশের নানা প্রান্তে ফোর-জি এর পাশাপাশি ফাইভ-জি প্রযুক্তি যখন বিস্তৃত হচ্ছে তখন মোবাইল নেটওয়ার্কের উল্টো চিত্র বঙ্গোপসাগর ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে।
অপারেটর সূত্র বলছে, উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগরের ১৫-২০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে গেলেই মোবাইলে ঠিকমত নেটওয়ার্ক মেলে না। ফোনে কথা বলতে দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয় পাহাড়ি জনপদের মানুষ এমনকি পর্যটকদেরও।
দুর্গম এসব এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন মোবাইল যোগাযোগ নিশ্চিতে স্যাটেলাইটভিত্তিক ‘ডাইরেক্ট টু সেল’ বা ডিটুসি সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিটিআরসি। এই প্রযুক্তিতে মোবাইল টাওয়ার ছাড়াই সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্মার্টফোনে ইন্টারনেট, ভয়েস কল ও মেসেজ আদান-প্রদান করা যায়। এরইমধ্যে বাংলালিংককে স্টারলিংকের সহায়তায় ডিটুসি সেবার পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দিয়েছে বিটিআরসি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ৮টি শর্তে অপারেটরটিকে সাময়িক ২১শ’ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান সময় সংবাদকে বর্তমানে বঙ্গোপসাগর ও দুর্গম পার্বত্য এলাকায় তাদের নির্দিষ্ট গ্রাহকের ফোনে ডিটুসি পরীক্ষা চলছে। প্রাথমিকভাবে হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস কল ও এসএমএস আদান-প্রদান করা যাচ্ছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হলে বিশেষ প্যাকেজের আওতায় মিলবে ডাটা সার্ভিস। নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রাহকের লোকেশান ট্রাকিংয়ের জন্য একটি অ্যাপ বানানো হচ্ছে।
তাইমুর রহমান সময় সংবাদকে আরও বলেন, ফোর-জি হলেই কিন্তু এই সেবাটা পাবেন তারা। গ্রাহকরা প্যাকেজ কিনলে তারা এটা স্টারলিংকটা পেতে পারে। প্রথমে আমরা স্মার্টফোনে ইন্টারনেট, ভয়েস কল ও এসএমএস দেয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি চলতি মাসেই এটার উদ্বোধন করতে পারব।
বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ গ্রাহককে মোবাইলে সেবা দিচ্ছে বাংলালিংক।
ইউডি/কেএস

