তিস্তা অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৫:৩৫
দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অববাহিকায় আগামী কয়েক দিনে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী ইমন কল্যাণ দাসের সই করা নদ-নদীর পরিস্থিতি এবং পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি কমেছে এবং গঙ্গা নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও পদ্মার পানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এসব নদী আগামী কয়েক দিন বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট অববাহিকাগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তিস্তা অববাহিকায়। তিস্তা নদী নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের কাউনিয়া ও গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীটির পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও বাড়তে পারে এবং কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারঝুলি পয়েন্টে সতর্কসীমায় রয়েছে। আগামী তিন দিনে এ অঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবন ঘটাতে পারে।
এছাড়া নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের সোমেশ্বরী, ভূগাই ও কংস নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ফেনী ও চট্টগ্রামের কয়েকটি নদী অববাহিকায়ও। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী কয়েকদিন সেগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইউডি/কেএস

