‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পরিবেশ উদ্যোগের প্রশংসা করেছে’

‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পরিবেশ উদ্যোগের প্রশংসা করেছে’

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৩:৫০

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ‍“আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পরিবেশ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে।”

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা উদ্বোধনী’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত মাসে তিনি জিইএফ-এর সম্মেলনে উজবেকিস্তান এবং পরিবেশবিষয়ক একটি সম্মেলনে জার্মানি সফর করেন। সেখানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের পরিবেশ, বনায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেছে এবং সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, “চলতি বছরে সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২৩ বছরে ২৭ বার আগুন লাগা সুন্দরবনে এ বছর প্রথমবারের মতো কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটেনি। এছাড়া, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০টি ব্রিক ফিল্ড অপসারণ করা হয়েছে এবং পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দখল হওয়া এলাকা উদ্ধার এবং সোনাদিয়া দ্বীপ, চকরিয়াসহ উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বছর সারা দেশে পাহাড়, সমতল ও উপকূলীয় এলাকায় বনায়নের জন্য ম্যাপিং সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কৃষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম শিকার হিসেবে বাংলাদেশ নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ও লবণাক্ততা এবং উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা মানুষের জীবন-জীবিকাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রকৃতিনির্ভর সমাধান বা ‘ন্যাচার বেইজড সলিউশন’-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।”

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, খাল খনন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বৈদ্যুতিক বাস চালুসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নিজের দায়িত্ব পালন করছে, এখন উন্নত দেশগুলোকেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

“প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত পরিবেশ সংরক্ষণে দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এবং কোথায় গাছ কাটা হচ্ছে, কোথায় পাহাড় ধ্বংস হচ্ছে কিংবা কোথায় বন্যপ্রাণী আক্রান্ত হচ্ছে- এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন”, যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আরো উপস্থিত ছিলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মোহাম্মদ সাইমুম পারভেজ প্রমুখ।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading