আর্জেন্টিনার চেয়ে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ইংল্যান্ড

আর্জেন্টিনার চেয়ে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ইংল্যান্ড

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ০৮:৪০

বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই উত্তেজনা, কৌশল আর স্নায়ুচাপের লড়াই। কিন্তু শেষ চারের এই মঞ্চে শুধু ফুটবল দক্ষতাই নয়, শারীরিক সক্ষমতাও হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের অন্যতম বড় উপাদান। একই লক্ষ্য পূরণ করে সেমিফাইনালে উঠলেও আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের পথচলা ছিল একেবারেই ভিন্ন। সেই পার্থক্যের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে বিশ্রাম ও ক্লান্তির হিসাবে, যেখানে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ইংল্যান্ড।

সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময় খেলতে হলেও, এটি ছিল পুরো টুর্নামেন্টে তাদের প্রথম ১২০ মিনিটের ম্যাচ। ফলে ফুটবলারদের ওপর অতিরিক্ত শারীরিক চাপ তুলনামূলক কমই পড়েছে।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে নকআউট পর্বে দুইবার অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে। শেষ ষোলোর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় মাঠে থাকার পর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষেও ১২০ মিনিট খেলতে হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দলকে। ফলে দলটির খেলোয়াড়দের শক্তিক্ষয় স্বাভাবিকভাবেই বেশি হয়েছে।

শুধু অতিরিক্ত সময়ই নয়, বিশ্রামের সুযোগের দিক থেকেও পিছিয়ে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ড তাদের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি আর্জেন্টিনার কয়েক ঘণ্টা আগেই খেলেছিল। এই ব্যবধানই থ্রি লায়ন্সদের খেলোয়াড়দের জন্য অতিরিক্ত রিকভারির সুযোগ এনে দিয়েছে, যা টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সেমিফাইনালের আগে হাতে চার দিনেরও কম সময় থাকায় আর্জেন্টিনার কোচিং স্টাফ এখন কৌশল সাজানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের দ্রুত ফিট করে তোলার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে শতভাগ ফিট দল নামানোই এখন স্কালোনির অন্যতম বড় লক্ষ্য।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বরাবরই ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আলোচিত লড়াই। দুই দলের অতীত ইতিহাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সমর্থকদের আবেগ এই ম্যাচকে অন্য মাত্রা দেয়। তাই সেমিফাইনালের এই লড়াইয়েও উত্তেজনার কোনো ঘাটতি থাকবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তবে ক্লান্তির হিসাবে ইংল্যান্ড কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ভ্রমণের ধকলের চিত্র ভিন্ন। চলতি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠা চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আকাশপথে ভ্রমণ করতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। টুর্নামেন্টজুড়ে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে হ্যারি কেইনদের দল, যা তাদের জন্যও কম চ্যালেঞ্জের নয়।

সব মিলিয়ে সেমিফাইনালে দুই দলের সামনেই ভিন্ন ধরনের পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। একদিকে আর্জেন্টিনাকে লড়তে হবে অতিরিক্ত ম্যাচের ক্লান্তির সঙ্গে, অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে সামলাতে হবে দীর্ঘ ভ্রমণের প্রভাব। তবে মাঠে শেষ পর্যন্ত কোন দল নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্যের সঠিক ব্যবহার করতে পারে, সেটিই নির্ধারণ করবে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার ভাগ্য।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading