নদী বাঁচাতে না পারলে ঢাকা বাঁচবে না: মির্জা ফখরুল
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৩:৪৫
বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ রাজধানী ঘিরে থাকা নদীগুলোকে রক্ষা করা না গেলে ঢাকাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নদী দখল ও দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘তুরাগ নদী নিয়মিতভাবেই দখলের শিকার হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগকে দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এই নদীগুলোকে বাঁচানো না গেলে ঢাকা শহরকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকার বর্তমান সমস্যাগুলো একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার কারণে এসব সংকট জমেছে। বর্ষা মৌসুম এলেই রাজধানীতে সেই সমন্বয় সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। দেশের অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র ঢাকা। সময়ের সঙ্গে নগরায়ণ, জনসংখ্যা ও বর্জ্যের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু নাগরিক সচেতনতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। উন্নত দেশে মানুষ একটি চকলেটের মোড়ক ফেলতেও ডাস্টবিন খোঁজে। এ ধরনের অভ্যাস ও মানসিকতা আমাদের মধ্যেও গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তোলার বিকল্প নেই। ঢাকাকে গড়ে তোলার কাজে রাজনৈতিক পরিচয় নয়, নাগরিক দায়িত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিএনপি-জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, রাজধানীর উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু সেমিনার করলেই হবে না, বাস্তব কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে হবে। গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো এলাকায় শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের বসবাস বেশি। তাদের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্কুল পর্যায় থেকেই পরিবেশ ও নাগরিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা জোরদার করতে হবে।’
সড়ক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজধানীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক সিগন্যাল চালুর পর সড়কে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে আইন লঙ্ঘনের প্রবণতাও কমছে এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।’
ইউডি/রেজা

