আগস্টেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

আগস্টেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১০:০০

চলতি বছরের আগস্টের শেষদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই তথ্য জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১,০০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এদিকে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পরিচালনা সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিট ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৮ সালের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত নানা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রূপপুরের নিরাপত্তা, পরিচালনা প্রস্তুতি ও ব্যবহৃত জ্বালানি (স্পেন্ট ফুয়েল) ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএলের)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান।

তিনি জানান, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে পরিচালিত হচ্ছে না। এটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ), রাশিয়ার স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা (Rostechnadzor) এবং বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) কঠোর তদারকিতে পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া জার্মানি-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক কারিগরি মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান (VO Safety) প্রতিটি ধাপের নিরাপত্তা পরীক্ষা করছে।

পরিচালন সক্ষমতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন খণ্ডন করে তিনি আরও বলেন, বিগত এক দশকে শত শত দেশীয় প্রকৌশলী ও অপারেটরদের রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রুশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার মাধ্যমে এনপিসিবিএল বর্তমানে শতভাগ সক্ষম একটি অপারেটর প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রস্তুত।

স্পেন্ট ফুয়েল নিয়ে কোনো জটিলতা নেই বলে তিনি জানান, ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি বা ‘স্পেন্ট ফুয়েল’ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে রাশিয়ার সঙ্গে ইতিমধ্যে ‘স্পেন্ট ফুয়েল টেক ব্যাক’ (ফেরত নেওয়ার) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর থেকে ব্যবহৃত জ্বালানি বের করেই অন্য দেশে পাঠানো যায় না। প্রথমে এটি রূপপুরের নিজস্ব ‘স্পেন্ট ফুয়েল পুল’-এ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ ও শীতল করা হবে। এরপর দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী তা রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে। ফলে এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, রূপপুরে রাশিয়ার সর্বাধুনিক ‘ভিভিইআর-১২০০’ মডেলের দুটি চুল্লি স্থাপন করার শেষ পর্যায়ে, দুটি ইউনিট পুরোদমে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading