নিজেই নিজেকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন ট্রাম্প
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৯:৩৩
মার্কিন আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ আরো ছয় মাস চলতে পারে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিতর্কিত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। আমেরিকার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিওন প্যানেটা এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে রবিবার জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
প্যানেটা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে ট্রাম্পের শুরু করা ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যার কোনো সুস্পষ্ট সমাপ্তি দেখা যাচ্ছে না।
বারাক ওবামার অধীনে সিআইএ পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা বলেন, “এটা কোনো রহস্য নয় যে, আমেরিকা ও ইরান এক ভয়াবহ অচলাবস্থার মধ্যে আটকা পড়েছে, যেখানে এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য সত্যিই খুব কম বিকল্প রয়েছে।”
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো’ ‘আরেকটি ব্যর্থ যুদ্ধ’ হয়ে ওঠার পথে রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, এই যুদ্ধের কোনো সমাধান না হয়ে আরও ছয় মাস চলার সম্ভাবনাই বেশি।”
ধারাবাহিক ছাঁটাই নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে উত্তেজনার খবরের পর, চলমান সংঘাতের মাঝেই মার্কিন সেনামন্ত্রী ড্যান ড্রিসকলের আকস্মিক পদত্যাগের কয়েকদিন পর প্যানেটা দ্য গার্ডিয়ানকে এই কথা বলেন।
২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা প্যানেটা আরও বলেন, “মার্কিন সেনাসদস্যরা এমন এক সময়ে যুদ্ধে যাচ্ছেন যখন পেন্টাগনের কমান্ড কাঠামোতে প্রচণ্ড অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা সত্যিই এমন একটি অনুভূতি তৈরি করে যে দায়িত্বে কেউ নেই। আমি মনে করি, সেটা ইরান হোক বা আমাদের প্রতিপক্ষই হোক, তারা এখন আমেরিকার দিকে তাকাচ্ছে এবং আমাদের দেশকে রক্ষা করার জন্য সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা দেখতে পাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, আমরা এক অত্যন্ত বিপজ্জনক বিশ্বে বাস করছি, যার প্রধান হুমকিগুলো আসছে চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং সন্ত্রাসবাদ থেকে, এবং হ্যাঁ, ইরান থেকেও। কিন্তু আমি যে বিষয়ে উদ্বিগ্ন তা হলো, আমরা আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষদের কাছে দুর্বলতার বার্তা পাঠাচ্ছি। যখন তারা এই সৃষ্ট অক্ষশক্তির অধীনে মিলিত হচ্ছে এবং একে অপরকে সমর্থন করে চলেছে, আমি মনে করি তারা এই মুহূর্তে আমেরিকাকে বিশেষ দুর্বল হিসেবে দেখছে এবং এমন এক সময়ে এটি একটি ভয়াবহ বার্তা যখন আমরা এই ধরনের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছি।”
তবে এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জোর দিয়ে বলেছে, হেগসেথের নেতৃত্বে তারা “পুরোদমে কাজ করছে”।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, “বিভাগটি বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে—এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এই ভবনের প্রত্যেক নিবেদিতপ্রাণ পেশাদার ও যোদ্ধার জন্য এই মন্তব্য একটি অপমান, যারা প্রতিদিন এই জাতিকে রক্ষা করার জন্য কাজে আসেন। সংস্কার দেখতে এমনই হয়।”
মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউসের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছিল।
মার্চ মাসে, ইরানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর মাত্র তিন সপ্তাহ পর প্যানেটা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন, তিনি মনে করেন ট্রাম্প এক উভয় সংকটে পড়েছেন। তিনি ভাবছিলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব খর্ব করার জন্য যুদ্ধ সম্প্রসারণ করবেন, নাকি ব্যর্থতার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সহজেই সরে এসে বিজয় ঘোষণা করবেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্যানেটা বলেন, তিনি “একদম নিশ্চিত যে ট্রাম্প এখনো সেই অবস্থানেই আছেন। ট্রাম্প নিজেই নিজেকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন।”
প্যানেটার মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমটি হলো সরে আসা এবং ‘এটি একটি ব্যর্থ যুদ্ধ তা স্বীকার করে নেওয়া’, যা ট্রাম্প করবেন বলে প্যানেটার মনে হয় না।
দ্বিতীয়টি হলো বর্তমান ‘অচলাবস্থাকে দীর্ঘায়িত করা, যেখানে পর্যায়ক্রমিক পাল্টাপাল্টি হামলা চলবে’ এবং উভয় পক্ষই আলোচনা বা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে ‘আরও বিপজ্জনক একটি যুদ্ধ শুরু এড়ানোর’ চেষ্টা করবে।
প্যানেটা বিশ্বাস করেন, এই পন্থা ‘সব পক্ষের আশঙ্কাই পূরণ করবে’: মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ।
তিনি বলেন, তৃতীয় বিকল্পটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং আমেরিকার ওপর ইরানের ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রভাবের উৎস’—অর্থাৎ বৈশ্বিক বাণিজ্যের এই সংকীর্ণ পথটি ‘বন্ধ ও ব্যাহত করার ক্ষমতা’ অপসারণ করা।
প্যানেটা বলেন, “সুতরাং প্রেসিডেন্ট হয় এগিয়ে এসে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন অথবা, যেমনটা আমি বললাম, তিনি এই অচলাবস্থায় জেতার ভান করে এই খেলা চালিয়ে যাবেন, যদিও বাস্তবতা হলো তিনি জিতছেন না।”
ইউডি/রেজা

