১৫ দিনের ব্যবধানে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, ব্রহ্মপুত্র পাড়ে আতঙ্ক

১৫ দিনের ব্যবধানে তীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস, ব্রহ্মপুত্র পাড়ে আতঙ্ক

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৫:৪০

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডানতীর রক্ষা বাঁধে ফের ধস দেখা দিয়েছে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় নতুন করে প্রায় ৬০ মিটার ব্লক পিচিং নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় নদ তীরবর্তী মানুষের মধ্যে ভাঙন-আতঙ্ক বেড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমেই বাঁধটির অন্তত ১৫০ থেকে ১৬০ মিটার এলাকায় ধসের ঘটনা ঘটেছে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ব্রহ্মপুত্রের তীব্র স্রোতে ব্লক পিচিং ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) চিলমারী উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার সড়কটারী অংশে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থান রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর বলেন, তার বাড়ি বাঁধের পশ্চিম পাশে। বৃষ্টি না থাকলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করেই ব্লক পিচিং ধসে পড়ে। খবর পাওয়ার পর শুক্রবার সকাল থেকে পাউবো জিও ব্যাগ ফেলছে।

একই এলাকার বাসিন্দা সুজন বলেন, বাঁধ নির্মাণের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তার অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণেই নদীর পানি বাড়লেই একই স্থানে বারবার ধস দেখা দিচ্ছে। প্রতিবছর জরুরি মেরামত করা হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

খয়বার নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, উত্তর ওয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কাঁচকোল বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার হয়ে যাবে।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৪৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা প্রকল্পের আওতায় এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র দুই বছর পর, ২০১৮ সাল থেকেই প্রায় চার কিলোমিটার বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিতে শুরু করে। প্রতিবারই জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।

চলতি মাসের ১ জুলাই কাঁচকোল এলাকার তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে যায়। তখন জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ১৫ দিনের মাথায় একই এলাকায় আবারও ধস দেখা দেয়।

কাঁচকোল এলাকার বাসিন্দা নুরী বেগম বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। এবারও বাঁধে ধসের পর থেকে দুশ্চিন্তা বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বসতভিটা ও ফসলি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ২০১৬ সালে চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষায় চার কিলোমিটার ব্লক পিচিং বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে তিনটি স্থানে প্রায় ১০০ মিটার এবং বৃহস্পতিবার আরও প্রায় ৬০ মিটার এলাকায় ধস দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে শুক্রবার সকাল থেকে ৪০০ জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১২ হাজার জিও ব্যাগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। রবিবারের (১৯ জুলাই) মধ্যে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading