গুজবে দিনাজপুরে তেলের পাম্পে ভিড়

গুজবে দিনাজপুরে তেলের পাম্পে ভিড়

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৫:০৫

দিনাজপুরে তেলের পাম্পে ভিড় করছেন মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জ্বালানি তেলের সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এই ঘটনা ঘটে। তবে একাধিক ফিলিং স্টেশনের মালিকরা জানান, পাম্পে তেলের সংকট নেই।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যার পর থেকে জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালকদের ভিড় বাড়তে থাকে।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে হাজারো মোটরসাইকেল চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন শুধু জ্বালানি তেল সংগ্রহের আশায়। হঠাৎ করে চাহিদার চাপে রাত ৯ টার মধ্যেই জেলার অনেক ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও অকটেনের মজুত সাময়িকভাবে শেষ হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি কোনো সরবরাহ সংকটের চিত্র নয়, বরং গুজবের কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ একসঙ্গে তেল কিনতে আসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দিনাজপুরের পরিস্থিতির সত্যতা যাচাই করতে পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় ও নীলফামারীর একাধিক ফিলিং স্টেশন আমাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই চিত্রের খবর পাওয়া গেছে।

তারা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়ে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ তেল কিনতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করেছেন।

জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সেসব পোস্ট হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। সে কারণে অনেকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, যেকোনো সময় জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে। সেই আতঙ্ক থেকেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল সংগ্রহে নেমে পড়েন অনেক চালক।

সকাল থেকে সরেজমিনে শহরের একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাসের দীর্ঘ সারি পাম্পের ভেতর থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের। অনেক চালককে তেল নেওয়ার জন্য ১ থেকে দেড় ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

কয়েক মাস আগে তেল সংকটের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে। খোলা বাজারেও তেলের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে।

শাকিল হোসেন বলেন, তেলের দাম আগেই বেড়েছে। এখন আবার যুদ্ধের কারণে সংকটের খবর শুনে তেল নিতে এলাম। ভবিষ্যতে সংকট হতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই আগাম তেল সংগ্রহ করছি।

গাড়ি চালক দুলাল হোসেন বলেন, ফেসবুকে দেখছি ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। তাই তেল নিতে এসেছি। এরপর যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়, তাহলে আমাদের জন্য কষ্টকর হবে। তাই আজই তেল নিয়ে রাখছি।

উপশহর হাউজিং মোড় মেসার্স পাইওনিয়ার ফিলিং স্টেশনের মালিক মফিদুল্লাহ চৌধুরী বাবলা বলেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি রয়েছে। কোনো প্রকার তেলের সংকট নেই। তাই গুজবে কান দিয়ে অযথা পাম্পে ভিড় না করে প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল স্বাভাবিকভাবে ক্রয় করার জন্য তিনি সবারর প্রতি আহ্বান জানান।

দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির প্রতিনিধি রাহবার কবির পিয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। হঠাৎ করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গ্রাহক আসছে। আমাদের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করছি। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত তেল স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ পাবো এবং বিক্রি করবো, ততক্ষণ আমরা এটাকে সংকট বলবো না। গুজবে কান দিয়ে অযথা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কেনার কোনো প্রয়োজন নেই।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading