‘জীবনে এমন মুহূর্ত এসেছে, যখন মনে হয়েছে—সবকিছু শেষ’
উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ০৮:২০
লাক্স তারকা থেকে রুপালি পর্দা, তারপর বিশ্ব মঞ্চ ও বলিউডে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে তার এই চলার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। কারণ পেশাগত নানা সংকটের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সংগ্রামটা একাই করতে হয়েছে তাকে।
মাঝে মাঝে জীবনের গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন আজমেরী হক বাঁধন। কখনো ঘাত-প্রতিঘাত, কখনো নিজের ভাবনার কথাও এ মাধ্যমে তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাঁধন একটি স্ট্যাটাসে জীবনের সংকট নিয়ে কথা বলেছেন।
আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত এসেছে, যখন সত্যিই মনে হয়েছে—সবকিছু শেষ। আমি শেষ হয়ে গেছি, সামনে এগিয়ে যাওয়ার আর কোনো পথ নেই। কিন্তু আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন, আমাদের জন্য কী কল্যাণকর। প্রতিবারই তার রহমত এমনভাবে আমার কাছে পৌঁছেছে, যা কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। মনে হয়েছে, প্রয়োজনের মুহূর্তে আকাশ থেকে যেন কোনো সমাধান নেমে এসেছে।”
কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “সেই সময়গুলো মোটেও সহজ ছিল না। সেগুলো ছিল—হৃদয়বিদারক, বিধ্বংসী, কখনো কখনো জীবনসংকটময়। সেই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা দিয়েছে—‘আল্লাহর পরিকল্পনা সবসময়ই আমাদের পরিকল্পনার চেয়ে উত্তম।’ আল্লাহ সবসময় আমাদের ওপর নজর রাখেন, আমাদের পথ দেখান, আমাদের জন্য সেই পথই তৈরি করেন, যা আমাদের চলার জন্য নির্ধারিত—যদিও আমরা তখন বুঝতে পারি না বা দেখতে পারি না।”
আজমেরী হক বাঁধন কখনো অন্যের জীবন অনুসরণ করেননি। তা উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি কখনো অন্য কারো জীবন অনুসরণ করার চেষ্টা করিনি। কিন্তু অনেক সুন্দর মনের মানুষের জীবন আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তাদের মধ্যে একটি বিষয় ছিল অভিন্ন। তা হলো—সততা এবং কঠোর পরিশ্রম।”
ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “তাই ধৈর্য ধরুন। আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন। আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের কাজ করে যান। একদিন সবকিছুই আপন গতিতে ঠিক জায়গায় এসে দাঁড়াবে—আপনিও।”
নিজেকে ভালোবাসার পরামর্শও দিয়েছেন আজমেরী হক বাঁধন। তিনি বলেন, “নিজেকে ভালোবাসুন। নিজেকে সম্মান করুন। বিনয়ী থাকুন, অন্যের প্রতি সহমর্মী হোন। অন্য সবার সঙ্গে দয়া ও সম্মান প্রদর্শন করে আচরণ করুন। সত্যিই জীবন সুন্দর। শুধু খোলা হৃদয় আর মন নিয়ে তাকে দেখতে হবে। আর সত্যিকার অর্থে জীবনযাপন করার জন্য সাহস রাখুন।”
ইউডি/কেএস

