রাশিয়ার এস-৪০০ থাকলে এফ-৩৫ পাবে না তুরস্ক

রাশিয়ার এস-৪০০ থাকলে এফ-৩৫ পাবে না তুরস্ক

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১০:০০

আমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে তুরস্কের ফেরার পথ এখনো সুগম হয়নি। দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে মার্কিন কংগ্রেসে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ওয়াশিংটনের স্পষ্ট বক্তব্য, রাশিয়ার তৈরি বিতর্কিত এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি বাদ না দেওয়া পর্যন্ত আঙ্কারাকে এই কর্মসূচিতে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।

জেরুজালেম পোস্টের হাতে আসা গত ২২ জুলাইয়ের একটি চিঠির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্স কংগ্রেস সদস্য ওয়েসলি বেলের চিঠির জবাবে এই অবস্থান স্পষ্ট করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তুরস্কের এফ-৩৫ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভারসারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট’ (সিএএটিএসএ) এবং ২০২০ সালের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের সঙ্গে সংগতি রেখেই এই কঠোর নীতি বজায় রাখা হয়েছে।

চিঠিতে সাফ জানানো হয়েছে, তুরস্ককে চুক্তি অনুযায়ী এস-৪০০ সিস্টেম বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সরঞ্জাম সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে আর কখনো এই ধরনের ব্যবস্থা সংগ্রহ না করার ব্যাপারে লিখিত নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং আইনগত সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তবেই তাদের এই কর্মসূচিতে পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আঙ্কারা এখনো এই শর্তগুলো পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এস-৪০০ সংক্রান্ত যেকোনো সমাধান অবশ্যই স্বচ্ছ, আইনানুগ এবং আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের অনুকূল হতে হবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ন্যাটো জোটের ঐক্য সুদৃঢ় করার পাশাপাশি এস-৪০০ ইস্যুটির সমাধানে আঙ্কারার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বাণিজ্য ও যৌথ নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে আমেরিকা-তুরস্ক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও, আমেরিকার স্বার্থে আঘাত হানে এমন যেকোনো কার্যক্রমে আঙ্কারাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়েও সতর্ক করেছে বাইডেন-ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে আমেরিকার নীতিমালায় আপত্তি থাকলেও বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটে তুরস্কের কূটনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছে আমেরিকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করা, আজারবাইজান-আর্মেনিয়া শান্তি আলোচনা এবং গাজা উপত্যকায় শান্তি ফেরানোর পদক্ষেপে আঙ্কারার ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে আমেরিকার প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ এগিয়ে নিতে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

এছাড়া সিরিয়াসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আইএস বিরোধী অভিযানেও দেশটির অবদান রয়েছে। তবে ইতিবাচক ভূমিকার পাশাপাশি তুরস্কের অভ্যন্তরে হামাস সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমেরিকা। চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, তুরস্কে এখনো হামাসের কিছু আর্থিক কার্যক্রম এবং অননুমোদিত হুন্ডি বা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমগুলোর তৎপরতা রয়েছে, যা আমেরিকার জন্য উদ্বেগের বিষয়। সন্ত্রাসী অর্থায়নের এসব চ্যানেল বন্ধে ওয়াশিংটন কঠোর ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading